বান্দারবানে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 58
পাহাড়ঘেরা বান্দরবান জেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন এবং ঠান্ডা বাতাসের কারণে বিশেষত পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। জেলার সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ায় চিকিৎসাকর্মীরা বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আসা শিশুদের ভর্তি হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর, লাগাতার কাশি ও বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গ নিয়ে ছোট শিশুদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। এদের বড় অংশকেই ভর্তি রেখে অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত এক মাসে বান্দরবান জেলায় অন্তত ২৫২ জন শিশু নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আজকের হিসাব অনুযায়ী নতুন রোগীর সংখ্যা ১৫ জন। একই সময়ে ডায়রিয়ার রোগী ছিল প্রায় ৪৩২ জন, যাদের বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, থানচি—সব উপজেলাতেই একই ধরণের চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই জ্বর, কাশি ও সর্দি উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে বেড সংকট দেখা দিয়েছে; অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুদের স্যালাইন এবং অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় ঠান্ডা বাতাস প্রবাহ বেশি হওয়ায় এবং অনেক পরিবার যথাযথ উষ্ণতার ব্যবস্থা না করতে পারায় শিশুরা রাতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া ধুলাবালি, কুয়াশা এবং অনিরাপদ পরিবেশ শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রাশেদুল আলম বলেন, “নিউমোনিয়া শিশুদের মাঝে দ্রুত ছড়াচ্ছে। দেরিতে হাসপাতালে এলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অভিভাবকদের তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার হারও বাড়ছে, তাই খাবার-দাবারে সতর্ক থাকা জরুরি।
দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে আরও বেশি ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কাঁচা রাস্তা, যানবাহনের সংকট ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হওয়ায় অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে আনতে দেরি হচ্ছে, ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়াতেও বিঘ্ন ঘটছে।
গ্যালেঙ্গা পাড়ার বাসিন্দা অংশৈ জানান, “শিশুর জ্বর ও কাশি শুরু হলে প্রথমে রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে সেখানে থেকে সদর হাসপাতালে রেফার করে। এখানে অক্সিজেন আর নেবুলাইজার দেওয়ার ফলে এখন শিশুর অবস্থা ভালো।”
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিলীপ চৌধুরী জানান, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন—
“নিরাপদ পানি, শিশুর জ্বর–কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। মৌসুমি রোগ পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন, তবে দ্রুত চিকিৎসা ও সচেতনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে।”

































