পরকীয়া প্রেমিককে বাসায় ডেকে নিয়ে খুন হন লাবনী
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 97
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় নাহিদ সুলতানা লাবনী (২৫) হত্যা মামলার রহস্য পুলিশ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মূল অভিযুক্ত প্রেমিক মিলন হোসাইনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত লাবনী ধুবিল কাটার মহলের আব্দুল কাইয়ুম রিগানের স্ত্রী। এ ঘটনায় লাবনীর বাবা গোলাম মোস্তফা ৩০ নভেম্বর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, লাবনী ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে আব্দুল কাইয়ুম রিগানের সঙ্গে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের আগে থেকেই লাবনীর সঙ্গে বড় গোজা গ্রামের মিলন হোসাইনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ের পরও গোপনে চলছিল।
২৯ নভেম্বর বিকেলে স্বামী বাড়িতে না থাকায় লাবনী মিলনকে ফোন করে বাসায় ডেকে নেন। এ সময় তিনি তার ভাগ্নি ও মেয়েকে বাজারে পাঠান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে মিলন বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে লাবনী বাধা দেন। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তাদের মধ্যে ঝগড়া বাড়তে থাকে। দ্বিতীয়বার শারীরিক সম্পর্কের জন্য মিলন রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। হাতাহাতির এক পর্যায়ে মিলন লাবনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেন, যা মৃত্যু হয়।
হত্যার পর মিলন লাবনীর ভাগ্নিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলেন, লাবনী অজ্ঞান হয়ে গেছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রাত পৌনে ৪টায় লাবনীর ভাগ্নি বিষয়টি লাবনীর বাবাকে জানালে তিনি পুলিশকে তথ্য দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সাহায্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিলনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। আটককালে তার কাছ থেকে লাবনীর চার ভরি স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়।
সলঙ্গা থানার ওসি হুমায়ূন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনা মনে করে ইউডি মামলা করা হয়েছিল। তবে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে ঘাতক প্রেমিক মিলনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আদালতে মিলন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।


































