ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কারা হেফাজতে ১৫ মাসে ১১২ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 122

কারা হেফাজতে ১৫ মাসে ১১২ মৃত্যু

গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে দেশের কারাগারগুলোতে মোট ১১২ জন বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই কারা হেফাজতে ৩৯২ জন বন্দির মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭৮ জনের মৃত্যুকে নির্দেশ করে। বন্দিদের মৃত্যু সাধারণত দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার কারণে ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা কারাগারের বাইরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৬৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৬ জন, ২০২২ সালে ৬৫ জন, ২০২১ সালে ৮১ জন এবং ২০২০ সালে ৭৫ জন বন্দি মারা গেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৫ জন, যাদের মধ্যে ফেব্রুয়ারি, জুলাই, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত পাঁচজন নেতা কারা হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছেন, যা আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়, তবে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দেশের ৬৮টি কারাগারের জন্য মাত্র ২৩টি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে, ফলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক কারাগারে রাতে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না, আর এতে গুরুতর অসুস্থ বন্দির অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল, ঢাকা, গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। এদের কারও মৃত্যুর আগে হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা দেখা দেয়, কারও অবস্থার অবনতি হয় কারা হাসপাতালে, আবার কেউ কেউ হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বেশ কয়েকটি ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে বন্দির অসুস্থতার খবরও তারা সময়মতো পাননি, যা মৃত্যু-পরবর্তী ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা দেশের কারা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। চিকিৎসাসেবার ঘাটতি, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাব, অতিরিক্ত সংখ্যক বন্দিকে ধারণ করা এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া—এসব কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার একটি সংবেদনশীল ক্ষেত্র যেখানে প্রতিটি বন্দির জীবন ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। তাই চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কারা হেফাজতে ১৫ মাসে ১১২ মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে দেশের কারাগারগুলোতে মোট ১১২ জন বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, শুধু গত পাঁচ বছরেই কারা হেফাজতে ৩৯২ জন বন্দির মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭৮ জনের মৃত্যুকে নির্দেশ করে। বন্দিদের মৃত্যু সাধারণত দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার কারণে ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা কারাগারের বাইরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অথবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৬৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৬ জন, ২০২২ সালে ৬৫ জন, ২০২১ সালে ৮১ জন এবং ২০২০ সালে ৭৫ জন বন্দি মারা গেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৫ জন, যাদের মধ্যে ফেব্রুয়ারি, জুলাই, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত পাঁচজন নেতা কারা হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছেন, যা আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়, তবে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দেশের ৬৮টি কারাগারের জন্য মাত্র ২৩টি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে, ফলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক কারাগারে রাতে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না, আর এতে গুরুতর অসুস্থ বন্দির অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল, ঢাকা, গাইবান্ধা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। এদের কারও মৃত্যুর আগে হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা দেখা দেয়, কারও অবস্থার অবনতি হয় কারা হাসপাতালে, আবার কেউ কেউ হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বেশ কয়েকটি ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে বন্দির অসুস্থতার খবরও তারা সময়মতো পাননি, যা মৃত্যু-পরবর্তী ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা দেশের কারা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। চিকিৎসাসেবার ঘাটতি, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাব, অতিরিক্ত সংখ্যক বন্দিকে ধারণ করা এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া—এসব কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার একটি সংবেদনশীল ক্ষেত্র যেখানে প্রতিটি বন্দির জীবন ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। তাই চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা এবং প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।