ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘নির্বাচন হচ্ছে না, এবার ভেতরের খবর ফাঁস’ : জিল্লুর রহমান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 94

জিল্লুর রহমান

জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান বলেছেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের অধীনে আমি কোনো নির্বাচন দেখি না। আবারও আমার কথার পুনরাবৃত্তি করছি—যদি নির্বাচন হয়ও, সেটা হবে একটি ‘ফার্সিকাল ইলেকশন’। হয়তো ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো, অথবা আরও পেছনে গেলে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি কিংবা ১৯৮৬–৮৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন হতে পারে। বাস্তবে আমি এখন আর কোনো নির্বাচন দেখছি না।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে অবাক হতে পারেন—কেন আমি নির্বাচন দেখি না? যারা অবাক হন, তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন—আপনারা কোন বিবেচনায় নির্বাচন দেখেন? নির্বাচনের কী প্রস্তুতি আছে? সরকারের কোন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে? রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে কী ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে?”
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি বরাবরই বলেছি—নির্বাচনটি বহু আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। গত ১৪ মাসে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তা যে সংকটে পড়েছে—তাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। বিএনপিও তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আপনারা দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়েছেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিন্তু বিবৃতির শেষ প্যারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছিল—তিনি দেশে ফিরবেন কি না। দলের শীর্ষ নেতারা বারবার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন ফিরবেন—কিন্তু ফিরছিলেন না। এবার প্রথমবারের মতো তিনি পরিষ্কার করলেন কেন ফিরছেন না। তার বক্তব্য—বাংলাদেশে ফেরা তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না; এমন কিছু বিষয় আছে যা অন্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি সব কিছু প্রকাশ করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেছেন। শেষ লাইনে লিখেছেন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত অবস্থায় পৌঁছালে তিনি দেশে ফিরবেন।”

জিল্লুর রহমান বলেন, “এখন প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী? আমার কাছে মনে হচ্ছে—বর্তমান পরিস্থিতি বিএনপি ও তারেক রহমানের অনুকূলে নয়। আমি জানি না সামনে কী হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে আমি কোনো নির্বাচন দেখতে পাচ্ছি না। আবারও বলি—এই সরকারের অধীনে নির্বাচন তিন মাস পরে, ছয় মাস পরে, কিংবা ফেব্রুয়ারির আগেও ‘ঘোষণা’ হতে পারে—কিন্তু প্রকৃত অর্থে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। তারা নানা চক্রে জড়িয়ে পড়েছে, আর বিএনপিও সেই টোপে পা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক দিন দেখি—জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই জোট নিয়ে আলোচনা করছে। আবার কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি থমথমে, উত্তেজনাপূর্ণ, বিপজ্জনক। এই নীরবতা আরও বেশি ভয়ানক। এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে—নিরাপত্তা উপদেষ্টা কখনো দোহা, কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো দিল্লি—এভাবে ছুটে বেড়াচ্ছেন।”

তার বিশ্লেষণ, “আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই ঘটনাবহুল হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে—এটা এখনই বলা কঠিন। জনগণের সরকার কিংবা নির্বাচিত রাজনীতি থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবুও আশা করি—ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেও মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, দেশ ঘুরে দাঁড়ায়। সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়—সেটার অপেক্ষা করতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা যতটা পারি পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করব। তবে সবাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন—তিনি দীর্ঘদিন দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন—এই কামনা করি। হয়তো আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারবেন না, কিন্তু পরিবারের অভিভাবক হিসেবে তার উপস্থিতি দল ও দেশের জন্য শক্তির উৎস।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘নির্বাচন হচ্ছে না, এবার ভেতরের খবর ফাঁস’ : জিল্লুর রহমান

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান বলেছেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের অধীনে আমি কোনো নির্বাচন দেখি না। আবারও আমার কথার পুনরাবৃত্তি করছি—যদি নির্বাচন হয়ও, সেটা হবে একটি ‘ফার্সিকাল ইলেকশন’। হয়তো ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো, অথবা আরও পেছনে গেলে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি কিংবা ১৯৮৬–৮৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন হতে পারে। বাস্তবে আমি এখন আর কোনো নির্বাচন দেখছি না।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে অবাক হতে পারেন—কেন আমি নির্বাচন দেখি না? যারা অবাক হন, তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন—আপনারা কোন বিবেচনায় নির্বাচন দেখেন? নির্বাচনের কী প্রস্তুতি আছে? সরকারের কোন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে? রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে কী ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে?”
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি বরাবরই বলেছি—নির্বাচনটি বহু আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। গত ১৪ মাসে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তা যে সংকটে পড়েছে—তাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। বিএনপিও তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আপনারা দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়েছেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিন্তু বিবৃতির শেষ প্যারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছিল—তিনি দেশে ফিরবেন কি না। দলের শীর্ষ নেতারা বারবার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন ফিরবেন—কিন্তু ফিরছিলেন না। এবার প্রথমবারের মতো তিনি পরিষ্কার করলেন কেন ফিরছেন না। তার বক্তব্য—বাংলাদেশে ফেরা তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না; এমন কিছু বিষয় আছে যা অন্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি সব কিছু প্রকাশ করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেছেন। শেষ লাইনে লিখেছেন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত অবস্থায় পৌঁছালে তিনি দেশে ফিরবেন।”

জিল্লুর রহমান বলেন, “এখন প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী? আমার কাছে মনে হচ্ছে—বর্তমান পরিস্থিতি বিএনপি ও তারেক রহমানের অনুকূলে নয়। আমি জানি না সামনে কী হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে আমি কোনো নির্বাচন দেখতে পাচ্ছি না। আবারও বলি—এই সরকারের অধীনে নির্বাচন তিন মাস পরে, ছয় মাস পরে, কিংবা ফেব্রুয়ারির আগেও ‘ঘোষণা’ হতে পারে—কিন্তু প্রকৃত অর্থে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। তারা নানা চক্রে জড়িয়ে পড়েছে, আর বিএনপিও সেই টোপে পা দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক দিন দেখি—জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই জোট নিয়ে আলোচনা করছে। আবার কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি থমথমে, উত্তেজনাপূর্ণ, বিপজ্জনক। এই নীরবতা আরও বেশি ভয়ানক। এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে—নিরাপত্তা উপদেষ্টা কখনো দোহা, কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো দিল্লি—এভাবে ছুটে বেড়াচ্ছেন।”

তার বিশ্লেষণ, “আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই ঘটনাবহুল হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে—এটা এখনই বলা কঠিন। জনগণের সরকার কিংবা নির্বাচিত রাজনীতি থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবুও আশা করি—ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেও মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, দেশ ঘুরে দাঁড়ায়। সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়—সেটার অপেক্ষা করতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, “আমরা যতটা পারি পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করব। তবে সবাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন—তিনি দীর্ঘদিন দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন—এই কামনা করি। হয়তো আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারবেন না, কিন্তু পরিবারের অভিভাবক হিসেবে তার উপস্থিতি দল ও দেশের জন্য শক্তির উৎস।”