ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ বন্যায় শ্রীলঙ্কায় অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 102

ভয়াবহ বন্যায় শ্রীলঙ্কায় অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু

শ্রীলঙ্কায় টানা বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দেশটি ক্রমেই সংকটের গভীরে ডুবছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এখনও ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ আঘাত হানার পর সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে। এরপর দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কেলানি নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যান্ডি ও বাদুল্লা জেলায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—এলাকার অনেক গ্রাম এখনো সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

বাদুল্লার মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান,
“আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন… যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁরা একটি মন্দির ও একটি অক্ষত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূমিধসে সব রাস্তা বন্ধ, কেউ গ্রাম ছেড়ে বের হতে পারছে না, আবার কেউ ভেতরেও ঢুকতে পারছে না। খাবার নেই, পানিও শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

উত্তর-মধ্য কুরুনেগালা জেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রম বন্যায় ডুবে যাওয়ায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
অন্যদিকে অনুরাধাপুরায় ডুবে যাওয়া একটি বাস থেকে ৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ২৪ ঘণ্টার সেই উদ্ধার অভিযানের এক যাত্রী জানান, নৌবাহিনী পাশের ভবনের ছাদে তুলে তাদের প্রাণ রক্ষা করে।

তিনি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান। আমরা ছাদে ওঠার পর ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়ে… কয়েকজন মহিলা পানিতে পড়ে গেলেও আবার ছাদে উঠতে সক্ষম হন।”

সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া গত শুক্রবার দ্বীপের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে, এরপর ধীরে ধীরে দেশ ছাড়ে। যদিও এখন বর্ষাকাল, এত ব্যাপক দুর্যোগ সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুবই বিরল। এর আগে ২০০৩ সালের জুনে ভয়াবহ বন্যায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরহারা হয়েছিল।

বর্তমান বিপর্যয় এমন সময় এসেছে যখন সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—বছরের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার প্রভাব ভোগ করছে।

সূত্র: বিবিসি

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভয়াবহ বন্যায় শ্রীলঙ্কায় অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

শ্রীলঙ্কায় টানা বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অন্তত ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দেশটি ক্রমেই সংকটের গভীরে ডুবছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এখনও ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ আঘাত হানার পর সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে। এরপর দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কেলানি নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যান্ডি ও বাদুল্লা জেলায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—এলাকার অনেক গ্রাম এখনো সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

বাদুল্লার মাসপান্না গ্রামের বাসিন্দা সামান কুমারা জানান,
“আমাদের গ্রামে দুইজন মারা গেছেন… যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁরা একটি মন্দির ও একটি অক্ষত বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূমিধসে সব রাস্তা বন্ধ, কেউ গ্রাম ছেড়ে বের হতে পারছে না, আবার কেউ ভেতরেও ঢুকতে পারছে না। খাবার নেই, পানিও শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

উত্তর-মধ্য কুরুনেগালা জেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রম বন্যায় ডুবে যাওয়ায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
অন্যদিকে অনুরাধাপুরায় ডুবে যাওয়া একটি বাস থেকে ৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ২৪ ঘণ্টার সেই উদ্ধার অভিযানের এক যাত্রী জানান, নৌবাহিনী পাশের ভবনের ছাদে তুলে তাদের প্রাণ রক্ষা করে।

তিনি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান। আমরা ছাদে ওঠার পর ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়ে… কয়েকজন মহিলা পানিতে পড়ে গেলেও আবার ছাদে উঠতে সক্ষম হন।”

সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া গত শুক্রবার দ্বীপের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে, এরপর ধীরে ধীরে দেশ ছাড়ে। যদিও এখন বর্ষাকাল, এত ব্যাপক দুর্যোগ সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুবই বিরল। এর আগে ২০০৩ সালের জুনে ভয়াবহ বন্যায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরহারা হয়েছিল।

বর্তমান বিপর্যয় এমন সময় এসেছে যখন সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—বছরের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার প্রভাব ভোগ করছে।

সূত্র: বিবিসি