ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তফসিলের দিন থেকেই কঠোর অবস্থানে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 83

নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই ভোট ও নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে রক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি চালাবে সাইবার সিকিউরিটি সেল। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোনো ছাড় থাকবে না।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ইসি আইনশৃঙ্খলা মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী (স্ট্যাটিক) নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ও রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। তফসিল ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। এতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তিন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে—স্ট্যাটিক, মোবাইল এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ। স্ট্যাটিক নিরাপত্তা কেন্দ্রভিত্তিক থাকবে, মোবাইল কম্পোনেন্ট ঘুরে ঘুরে নজরদারি করবে এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ প্রয়োজনে মোতায়েন হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং চালাবে সাইবার সিকিউরিটি সেল। ইসি সাইবার সিকিউরিটি সেল ব্যবহার করবে তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি ও অন্যান্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে গুজব ও মিথ্যা তথ্য রোধের জন্য।

এবারের নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছেন। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আনসার-ভিডিপি সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডও দায়িত্বে থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কন্টিনজেন্সি প্ল্যান তৈরি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। পোস্টাল ভোটিংয়ে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বাহিনী নেই, তাই সব বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রথম দিন থেকেই আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত থাকবেন।”

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি, আনসার-ভিডিপি, ডিজিএফআই, বিজিবি, র‌্যাব, সিআইডি ও পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তফসিলের দিন থেকেই কঠোর অবস্থানে ইসি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই ভোট ও নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে রক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি চালাবে সাইবার সিকিউরিটি সেল। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোনো ছাড় থাকবে না।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ইসি আইনশৃঙ্খলা মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী (স্ট্যাটিক) নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ও রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। তফসিল ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। এতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তিন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে—স্ট্যাটিক, মোবাইল এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ। স্ট্যাটিক নিরাপত্তা কেন্দ্রভিত্তিক থাকবে, মোবাইল কম্পোনেন্ট ঘুরে ঘুরে নজরদারি করবে এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ প্রয়োজনে মোতায়েন হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং চালাবে সাইবার সিকিউরিটি সেল। ইসি সাইবার সিকিউরিটি সেল ব্যবহার করবে তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি ও অন্যান্য এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে গুজব ও মিথ্যা তথ্য রোধের জন্য।

এবারের নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছেন। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। আনসার-ভিডিপি সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডও দায়িত্বে থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কন্টিনজেন্সি প্ল্যান তৈরি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। পোস্টাল ভোটিংয়ে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বাহিনী নেই, তাই সব বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রথম দিন থেকেই আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত থাকবেন।”

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি, আনসার-ভিডিপি, ডিজিএফআই, বিজিবি, র‌্যাব, সিআইডি ও পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।