ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পানির অভাবে সংকটে তিস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 61

পানির অভাবে সংকটে তিস্তা

তিস্তা নদী বর্তমানে পানির অভাবে সংকটে রয়েছে। নদীর ডালিয়া পয়েন্ট বঙ্গোপসাগর থেকে ৫৪ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিলকে শুকনো মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এবার নভেম্বরের শেষের দিকে নদীতে পানি প্রায় শূন্য পর্যায়ে নেমে এসেছে।

নদীতে ক্রমাগত পলি জমার কারণে তিস্তার নিম্নাংশ ভরাট হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধু-ধু বালুচর তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না হওয়ায় প্রতিবছরই পলির স্তর বাড়ছে। ব্যারেজের মাধ্যমে এসব পলি প্রবাহিত হয়ে ডালিয়া থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল চর গড়ে উঠেছে।

শুকনো মৌসুমে তিস্তায় চারপাশে শুধু বালুচর দেখা যায়। নদীর আশপাশের পানি স্তর অনেক নেমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প পুরো কমান্ড এলাকায় সেচ দিতে পারছে না। ভারতের গজলডোবা থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে প্রতিবছরই সেচ প্রকল্পে পানি ঘাটতি দেখা দেয়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ফলে ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোটি কোটি টন পলি নদী ভরাট করলেও অপসারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল প্রায় ৬ হাজার কিউসেক, যা প্রতিদিনই কমছে। জানুয়ারি মাসে সেচ মৌসুম শুরু হবে। তখন নদীতে কমপক্ষে তিন থেকে চার হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন, যা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে বর্ষার সময় প্রতিদিন দুই লাখ কিউসেকের বেশি পানি নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয় ১৯৪৫ সালে। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে দুই দেশ আলাদাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। প্রথম সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হয় ১৯৬০ সালে, দ্বিতীয় সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন হয় ১৯৬৯–৭০ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা সম্ভব হলেও পানির প্রবাহ ঠিক না থাকায় প্রত্যেক মৌসুমে তীব্র পানিসঙ্কট দেখা দেয়।

তিস্তা নদীর উৎস উত্তর সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল, যেখানে দুটি স্রোতধারা—লাচেন ও লাংচু মিলিত হয়ে নদী গঠন করে। নদীটি ভারতীয় জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কোচবিহার অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং কুড়িগ্রামের চিলমারীতে যমুনার সঙ্গে মিশে যায়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে শুকনো মৌসুম শুরু হয় এবং এ সময় নদীতে পানি স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পানির অভাবে সংকটে তিস্তা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

তিস্তা নদী বর্তমানে পানির অভাবে সংকটে রয়েছে। নদীর ডালিয়া পয়েন্ট বঙ্গোপসাগর থেকে ৫৪ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিলকে শুকনো মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এবার নভেম্বরের শেষের দিকে নদীতে পানি প্রায় শূন্য পর্যায়ে নেমে এসেছে।

নদীতে ক্রমাগত পলি জমার কারণে তিস্তার নিম্নাংশ ভরাট হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ধু-ধু বালুচর তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না হওয়ায় প্রতিবছরই পলির স্তর বাড়ছে। ব্যারেজের মাধ্যমে এসব পলি প্রবাহিত হয়ে ডালিয়া থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল চর গড়ে উঠেছে।

শুকনো মৌসুমে তিস্তায় চারপাশে শুধু বালুচর দেখা যায়। নদীর আশপাশের পানি স্তর অনেক নেমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প পুরো কমান্ড এলাকায় সেচ দিতে পারছে না। ভারতের গজলডোবা থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে প্রতিবছরই সেচ প্রকল্পে পানি ঘাটতি দেখা দেয়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ফলে ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোটি কোটি টন পলি নদী ভরাট করলেও অপসারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল প্রায় ৬ হাজার কিউসেক, যা প্রতিদিনই কমছে। জানুয়ারি মাসে সেচ মৌসুম শুরু হবে। তখন নদীতে কমপক্ষে তিন থেকে চার হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন, যা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। তবে বর্ষার সময় প্রতিদিন দুই লাখ কিউসেকের বেশি পানি নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয় ১৯৪৫ সালে। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে দুই দেশ আলাদাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। প্রথম সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হয় ১৯৬০ সালে, দ্বিতীয় সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন হয় ১৯৬৯–৭০ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা সম্ভব হলেও পানির প্রবাহ ঠিক না থাকায় প্রত্যেক মৌসুমে তীব্র পানিসঙ্কট দেখা দেয়।

তিস্তা নদীর উৎস উত্তর সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল, যেখানে দুটি স্রোতধারা—লাচেন ও লাংচু মিলিত হয়ে নদী গঠন করে। নদীটি ভারতীয় জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কোচবিহার অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং কুড়িগ্রামের চিলমারীতে যমুনার সঙ্গে মিশে যায়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে শুকনো মৌসুম শুরু হয় এবং এ সময় নদীতে পানি স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে।