ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরকা পরে সিনেটে উপস্থিত অস্ট্রেলিয়ান নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 134

বোরকা পরে সিনেটে উপস্থিত অস্ট্রেলিয়ান নেতা

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিরোধী দল ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন বোরকা পরে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে উপস্থিত হন, যাতে মুসলিম পোশাকটি জনসাধারণে নিষিদ্ধ করার তাঁর রাজনৈতিক প্রচারণা ফুটে ওঠে। এতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় মুসলিম সিনেটররা তাঁকে বর্ণবাদের অভিযোগ করেছেন।

যখন পলিন হ্যানসনকে অস্ট্রেলিয়ার জনসাধারণের স্থানে বোরকা এবং অন্যান্য সম্পূর্ণ মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করার একটি বিল প্রস্তাব করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, ঠিক তখনই তিনি এই ঘটনাটি ঘটান। পার্লামেন্টে হ্যানসনের বোরকা পরে উপস্থিত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। তিনি চান জনসমাগমে বোরকা পরা নিষিদ্ধ হোক। হ্যানসন বোরকা পরে চেম্বারে প্রবেশ করলে সিনেটে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং তিনি তা খুলতে অস্বীকার করলে সভা স্থগিত করা হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রীন্স পার্টির মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন, ‘তিনি একজন বর্ণবাদী সিনেটর, স্পষ্টভাবে বর্ণবাদ প্রদর্শন করছেন।’ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন সিনেটর ফাতিমা পাইম্যান এই কাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দেন। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্র-বাম লেবার সরকারের সিনেটে নেতা পেনি ওয়ং এবং বিরোধী জোটের সিনেট উপনেতা অ্যান রাসটন—দু’জনই হ্যানসনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন।

ওয়ং বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর হওয়ার জন্য অযোগ্য আচরণ।’ তিনি হ্যানসনকে বোরকা না খুললে স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। হ্যানসন যেতে অস্বীকার করলে সিনেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। কুইন্সল্যান্ডের এই সিনেটর হ্যানসন ১৯৯০-এর দশকে এশিয়া থেকে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থী প্রবেশের কঠোর বিরোধিতার কারণে পরিচিতি পান। পার্লামেন্টে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিয়মিত ইসলামিক পোশাকের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি ২০১৭ সালে পার্লামেন্টে বোরকা পরে একই ধরনের জাতীয় নিষিদ্ধকরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

হ্যানসনের ‘ওয়ান নেশন’ পার্টির সিনেটে চারটি আসন রয়েছে, যার মধ্যে মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে দুটি আসন তারা জয় করে। সাম্প্রতিক সময়ে চরম দক্ষিণপন্থী এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রতি সমর্থন বেড়েছে।

পরবর্তীতে ফেসবুকে হ্যানসন জানান, তাঁর এই কর্মটি প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদ। তিনি বলেন, ‘যদি পার্লামেন্ট এটি নিষিদ্ধ না করে, আমি এই দমনমূলক, উগ্র, ধর্মনিরপেক্ষ মাথার পোশাক পার্লামেন্টের মঞ্চে প্রদর্শন করব, যাতে প্রতিটি অস্ট্রেলিয়ান জানে কী ঝুঁকি রয়েছে। যদি তারা না চান যে আমি এটি পরে আসি, তাহলে বোরকা নিষিদ্ধ করুন।’

সূত্র : রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বোরকা পরে সিনেটে উপস্থিত অস্ট্রেলিয়ান নেতা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিরোধী দল ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন বোরকা পরে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে উপস্থিত হন, যাতে মুসলিম পোশাকটি জনসাধারণে নিষিদ্ধ করার তাঁর রাজনৈতিক প্রচারণা ফুটে ওঠে। এতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় মুসলিম সিনেটররা তাঁকে বর্ণবাদের অভিযোগ করেছেন।

যখন পলিন হ্যানসনকে অস্ট্রেলিয়ার জনসাধারণের স্থানে বোরকা এবং অন্যান্য সম্পূর্ণ মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করার একটি বিল প্রস্তাব করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, ঠিক তখনই তিনি এই ঘটনাটি ঘটান। পার্লামেন্টে হ্যানসনের বোরকা পরে উপস্থিত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। তিনি চান জনসমাগমে বোরকা পরা নিষিদ্ধ হোক। হ্যানসন বোরকা পরে চেম্বারে প্রবেশ করলে সিনেটে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং তিনি তা খুলতে অস্বীকার করলে সভা স্থগিত করা হয়।

নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রীন্স পার্টির মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন, ‘তিনি একজন বর্ণবাদী সিনেটর, স্পষ্টভাবে বর্ণবাদ প্রদর্শন করছেন।’ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন সিনেটর ফাতিমা পাইম্যান এই কাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দেন। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্র-বাম লেবার সরকারের সিনেটে নেতা পেনি ওয়ং এবং বিরোধী জোটের সিনেট উপনেতা অ্যান রাসটন—দু’জনই হ্যানসনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন।

ওয়ং বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর হওয়ার জন্য অযোগ্য আচরণ।’ তিনি হ্যানসনকে বোরকা না খুললে স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। হ্যানসন যেতে অস্বীকার করলে সিনেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। কুইন্সল্যান্ডের এই সিনেটর হ্যানসন ১৯৯০-এর দশকে এশিয়া থেকে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থী প্রবেশের কঠোর বিরোধিতার কারণে পরিচিতি পান। পার্লামেন্টে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিয়মিত ইসলামিক পোশাকের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি ২০১৭ সালে পার্লামেন্টে বোরকা পরে একই ধরনের জাতীয় নিষিদ্ধকরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

হ্যানসনের ‘ওয়ান নেশন’ পার্টির সিনেটে চারটি আসন রয়েছে, যার মধ্যে মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে দুটি আসন তারা জয় করে। সাম্প্রতিক সময়ে চরম দক্ষিণপন্থী এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রতি সমর্থন বেড়েছে।

পরবর্তীতে ফেসবুকে হ্যানসন জানান, তাঁর এই কর্মটি প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদ। তিনি বলেন, ‘যদি পার্লামেন্ট এটি নিষিদ্ধ না করে, আমি এই দমনমূলক, উগ্র, ধর্মনিরপেক্ষ মাথার পোশাক পার্লামেন্টের মঞ্চে প্রদর্শন করব, যাতে প্রতিটি অস্ট্রেলিয়ান জানে কী ঝুঁকি রয়েছে। যদি তারা না চান যে আমি এটি পরে আসি, তাহলে বোরকা নিষিদ্ধ করুন।’

সূত্র : রয়টার্স