উত্তরায় গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, চারজন গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 121
রাজধানীর উত্তরা থেকে গত সোমবার বিকেলে অজ্ঞাত এক যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি, বিশেষ কায়দায় তৈরি নাইলনের রশি এবং নিহতের অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সামিদুল হক মনা (৪২), রবিউল ইসলাম রানা (২০), হজরত আলি (৪৫) ও নয়ন মিয়া (৩০)।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মুহিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, “সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তুরাগ থানাধীন ১৭ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর ব্রিজের পাশে একটি ফাঁকা জমির ছনের মধ্যে গলা কাটা অবস্থায় অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।”
উপ-কমিশনার মুহিদুল ইসলাম আরও জানান, নিহত কিশোরের নাম শান্ত। তিনি রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিকশা চালাতে বের হন এবং আর বাসায় ফেরেননি। এ ঘটনায় তার মা কাফরুল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। পরে মৃত ব্যক্তিকে তার মামা মো. শহিদুল ইসলাম শনাক্ত করেন।
তুরাগ থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সামিদুল হক মনাকে গ্রেপ্তার করে। তার জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য তিনজনের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ পায়।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শান্তকে ৭ নম্বর ব্রিজের কাছে নিয়ে যায় দুজন। এরপর ফাঁকা জমিতে নিয়ে রবিউল ইসলাম রানা নাইলনের রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং সামিদুল হক মনা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটায়। হত্যার পর তারা শান্তের অটোরিকশা নিয়ে ভাসানটেকের দিকে চলে যায়। হজরত আলির সহায়তায় নয়ন মিয়ার কাছে রিকশাটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় তুরাগ থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।































