ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরের ৬০% কনটেইনার বিদেশি অপারেটরের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 99

এনসিটি চুক্তির বৈধতা নিয়ে রায় ৪ ডিসেম্বর

চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় চুক্তির শর্তাবলি গোপন রেখে সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ডেনমার্কের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের ৩৩ বছর মেয়াদি এবং সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএর সঙ্গে পানগাঁও নৌ টার্মিনালের ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া এবং সময়ের সীমিততার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এপিএম টার্মিনালসের প্রস্তাব ৪ নভেম্বর দাখিল করা হয়। দ্রুত পর্যালোচনা শেষে ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের মাধ্যমে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়ায় দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হলেও এবার এক দিনের কম সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতোমধ্যেই সৌদি কোম্পানির হাতে রয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে এটি আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তর করা হবে। বে-টার্মিনালের একটি অংশ ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং অন্য অংশ সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের হাতে যাবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বিদেশি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের মালিকানা বিদেশির হাতে তুলে দেওয়ায় দেশের নিরাপত্তা ও ইতিহাসের প্রতি অনিয়ম ঘটতে পারে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, বিএফসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও সিকম গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিরুল হক, এবং বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, বন্দরের মালিকানা বাংলাদেশেরই থাকবে; বিদেশি প্রতিষ্ঠান শুধু নির্মাণ ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, বন্দরের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আন্তর্জাতিক অপারেটর প্রয়োজন। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ করা হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ৬০% কনটেইনার বিদেশি অপারেটরের হাতে

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় চুক্তির শর্তাবলি গোপন রেখে সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ডেনমার্কের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের ৩৩ বছর মেয়াদি এবং সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএর সঙ্গে পানগাঁও নৌ টার্মিনালের ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া এবং সময়ের সীমিততার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এপিএম টার্মিনালসের প্রস্তাব ৪ নভেম্বর দাখিল করা হয়। দ্রুত পর্যালোচনা শেষে ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের মাধ্যমে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়ায় দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হলেও এবার এক দিনের কম সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতোমধ্যেই সৌদি কোম্পানির হাতে রয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে এটি আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তর করা হবে। বে-টার্মিনালের একটি অংশ ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং অন্য অংশ সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের হাতে যাবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বিদেশি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের মালিকানা বিদেশির হাতে তুলে দেওয়ায় দেশের নিরাপত্তা ও ইতিহাসের প্রতি অনিয়ম ঘটতে পারে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, বিএফসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও সিকম গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিরুল হক, এবং বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, বন্দরের মালিকানা বাংলাদেশেরই থাকবে; বিদেশি প্রতিষ্ঠান শুধু নির্মাণ ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, বন্দরের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আন্তর্জাতিক অপারেটর প্রয়োজন। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ করা হয়নি।