ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে হাজী ও নান্না বিরিয়ানির নামে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 71

ফরিদপুরে হাজী ও নান্না বিরিয়ানির নামে প্রতারণা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ‘হাজী বিরিয়ানি হাউস’ ও ‘নান্না বিরিয়ানি হাউস’ নামে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালাচ্ছে। রাজধানীর জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর নাম নকল করে তারা নিম্নমানের খাবার বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের শিথিল নজরদারির কারণে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন স্থানে প্রতিষ্ঠান দুটি সামান্য হেরফের করে সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। ভোক্তা অধিকারকর্মীরা এটিকে পরিকল্পিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রান্নার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। রান্নাঘরজুড়ে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্ন বাসনপত্রের মধ্যে মাংস ও চাল সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মাছি-পোকামাকড়ের উপস্থিতি স্পষ্ট। ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের খাবার গ্রহণে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, টাইফয়েড, রক্তবমি এবং ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি থাকে।

চরভদ্রাসন উপজেলা কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি জয়নুল আবেদিন কামাল বলেন, ক্রেতারা বুঝতে না পেরে নকল ব্র্যান্ডের খাবার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। এতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান নিশ্চিত করেন, বাজারে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করছে এবং তাদের কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজী তায়েব জানান, রমজান মাসে তিনি অভিযোগ করলেও তদন্ত দলের সদস্যদের আগেই দোকানদারকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হলে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এরপর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাজারের রাস্তায় রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর।

হাজী ও নান্না বিরিয়ানির নামে খাবার খেয়ে এক ভোক্তা জানান, আসল ব্র্যান্ডের স্বাদ এবং গন্ধ নকলের থেকে ভিন্ন, তবে প্রশাসন এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

রেস্তোরাঁর কর্মীরা স্বীকার করেছেন, তাদের আসল হাজী ও নান্না বিরিয়ানির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সুনাম ভাঙিয়ে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, এ ধরনের কাজ প্রতারণার আওতায় পড়ে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তাদের সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্নমানের খাদ্য বিক্রি, প্রতারণা ও ব্র্যান্ডের নাম অপব্যবহার গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে প্রতারকরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফরিদপুরে হাজী ও নান্না বিরিয়ানির নামে প্রতারণা

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ‘হাজী বিরিয়ানি হাউস’ ও ‘নান্না বিরিয়ানি হাউস’ নামে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালাচ্ছে। রাজধানীর জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর নাম নকল করে তারা নিম্নমানের খাবার বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের শিথিল নজরদারির কারণে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন স্থানে প্রতিষ্ঠান দুটি সামান্য হেরফের করে সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। ভোক্তা অধিকারকর্মীরা এটিকে পরিকল্পিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রান্নার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। রান্নাঘরজুড়ে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা এবং অপরিচ্ছন্ন বাসনপত্রের মধ্যে মাংস ও চাল সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মাছি-পোকামাকড়ের উপস্থিতি স্পষ্ট। ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের খাবার গ্রহণে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, টাইফয়েড, রক্তবমি এবং ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি থাকে।

চরভদ্রাসন উপজেলা কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি জয়নুল আবেদিন কামাল বলেন, ক্রেতারা বুঝতে না পেরে নকল ব্র্যান্ডের খাবার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। এতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান নিশ্চিত করেন, বাজারে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করছে এবং তাদের কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজী তায়েব জানান, রমজান মাসে তিনি অভিযোগ করলেও তদন্ত দলের সদস্যদের আগেই দোকানদারকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হলে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এরপর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাজারের রাস্তায় রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর।

হাজী ও নান্না বিরিয়ানির নামে খাবার খেয়ে এক ভোক্তা জানান, আসল ব্র্যান্ডের স্বাদ এবং গন্ধ নকলের থেকে ভিন্ন, তবে প্রশাসন এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

রেস্তোরাঁর কর্মীরা স্বীকার করেছেন, তাদের আসল হাজী ও নান্না বিরিয়ানির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সুনাম ভাঙিয়ে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, এ ধরনের কাজ প্রতারণার আওতায় পড়ে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তাদের সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নিম্নমানের খাদ্য বিক্রি, প্রতারণা ও ব্র্যান্ডের নাম অপব্যবহার গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে প্রতারকরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।