পরকীয়ার জেরে লাশ ২৬ টুকরো, বন্ধু জরেজুল গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / 70
ত্রিভুজ প্রেমের ফাঁদে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের লাশ ২৬ খণ্ড করে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রামে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা তারই বন্ধু জরেজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অন্যদিকে র্যাব-৩ এর একটি দল লাকসাম থেকে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি পরকীয়া প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, শামীমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন দুই বন্ধু আশরাফুল ও জরেজ। এ নারীর সঙ্গে দুজনের ছিল ত্রিভুজ প্রেম। কিন্তু এই প্রেম তাদের বন্ধুত্বে ফাটল তৈরি করেছিল। যার জেরে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হতে হয় আশরাফুলকে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দু’দিন পর তার মরদেহ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জরেজ ও শামীমা আক্তার।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমা আক্তার কুমিল্লার বাসিন্দা। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শামীমার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। তিন বছর আগে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার সম্পর্ক হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজুল ইসলামের সঙ্গে। ছুটিতে দেশে ফেরার পর শামীমার সঙ্গে জরেজুলের অনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়।
জানা যায়, রংপুরে একই এলাকায় থাকা জরেজুল ও আশরাফুলের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। জরেজুলের মাধ্যমে আশরাফুলের সঙ্গে শামীমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রধরে দুজনের মধ্যে এক পর্যায়ে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এসে জরেজুল দক্ষিণ ধনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। শামীমা তার পরিবার কুমিল্লায় রেখে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বন্ধুর বাসায় যায় আশরাফুল। ওই সময় জরেজুলের সঙ্গে শামীমার অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে যায় আশরাফুল। এটা জানার পর সেও অনৈতিক কাজ করে শামীমার সঙ্গে।
এ বিষয়টি টের পেয়ে যায় জরেজুল। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বের হওয়ার সময় ভুলে আশরাফুলের মোবাইল ফোনও সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল দিতে ফিরে এসে দেখে শামীমা ও আশরাফুল একসঙ্গে ঘুমিয়ে আছে। ওই সময় জরেজুল বাসার ভেতরে গোপনে রাত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। রাতে আশরাফুলকে বালিশ চাপা দিয়ে ধরেন জরেজুল। ওই সময় শামীমাও সেখানে ছিলেন। এক পর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আশরাফুল মারা যান।
হত্যার পর মরদেহ দু’দিন বাসার ভেতরে রাখা হয়। পরে দুইজন মরদেহ ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ফেলে দেন এবং তারা কুমিল্লায় পালিয়ে যান।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আশরাফুল ঢাকায় আসেন। বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ এবং আলু আমদানি করতেন আশরাফুল। পণ্য আমদানির জন্য তার সরকারি লাইসেন্স রয়েছে।





































