ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে যে চারটি প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রশ্ন থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 103

গণভোট

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাবের ওপর জনগণ গণভোটে একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে মতামত জানাবেন।

প্রস্তাবিত চারটি বিষয় হলো:

১. নির্বাচনকালীন প্রক্রিয়া: তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠিত হবে।

২. দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩. সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব বাস্তবায়ন: সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকারসহ মোট ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. অন্যান্য সংস্কার: জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করবে। সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণভোটে যে চারটি প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রশ্ন থাকবে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাবের ওপর জনগণ গণভোটে একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে মতামত জানাবেন।

প্রস্তাবিত চারটি বিষয় হলো:

১. নির্বাচনকালীন প্রক্রিয়া: তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠিত হবে।

২. দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩. সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব বাস্তবায়ন: সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকারসহ মোট ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. অন্যান্য সংস্কার: জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হ্যাঁ’ হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করবে। সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।