‘বহু নেতাকর্মীর ভবিষ্যৎ শেষ হয়েছে জেলখানায়’
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / 74
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ‘আমি নিজে আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এর করা ১১০ এর বেশি মামলার আসাসি ছিলাম। ময়লার গাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে হত্যা মামলা! সব মিথ্যা মামলা! আড়াই বছরের বেশি জেলে ছিলাম!’ বহু নেতাকর্মীর সারাজীবন নয়তো ভবিষ্যত শেষ হয়েছে জেলখানায়, অনেকের পড়াশোনা ও সংসার হয়নি বলেও জানান তিনি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) তার ভেরিয়ায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে তিনি জানান, ‘কোর্টে কোর্টে আমার অসুস্থ স্ত্রী দৌড়ে গেছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের জেলে লাখ লাখ কর্মী বন্দী ছিলো, মিথ্যা মামলায়। আমি জেলে দেখেছি আমাদের ছেলেদের উপর কী অত্যাচার হয়েছে। সারা শরীর জুড়ে অত্যাচারের দাগ। এদের অনেকের সারাজীবন, ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে জেলে। পড়াশুনা হয় নি, সংসার হয় নি। এদের পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছে। যারা মাঠের রাজনীতি করে না, তারা কোনও দিন জানবে না এদের স্ট্রাগল। কথা নিয়ে অনেক রাজনীতি করা যায়, ফ্যাসিজম এর সামনে দাড়িয়ে জেলে যেতে পারে না সবাই।’
পোস্টে তিনি একটি ব্যাগের ছবি শেয়ার করে বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল, ঢাকা জেলে, এই ব্যাগটা আমি ওকে দিয়েছিলাম। ব্যাগটা জেলের ভেতরে এক বন্দী বানিয়েছিল। তার কাছ থেকে কিনেছিলাম। জানি না, কাউকে কল্পনায় রেখে সে বানিয়েছিল কিনা এই ব্যাগটা। প্রশ্ন করা হয় নি ছেলেটাকে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছিলেন “রাষ্ট্র বনাম মির্জা ফখরুল” উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, ‘জেলে মাটিতেও শুতে হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছে, নির্বাচনে আসুন, মুক্তি পাবেন। আমরা প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। ৭ বার জামিন রিজেক্টেড হয়েছে।’
পোস্টে বিএনপি মহাসচিব আরও লিখেছেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের করা প্রতিটি মিথ্যা এবং হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। হাসিনার এবং তার মাফিয়া বাহিনীর প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে হবে। আমরা প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই। আমরা প্রকৃত অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেই মামলা করবো এবং শাস্তি নিশ্চিত করবো।’
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখেছেন, ‘যে যেই অন্যায় করেনি, তাকে সেই অন্যায়ের জন্য হয়রানী কেন করা হবে? কোন নিরপরাধ মানুষ কে হয়রানি করার নাম রাজনীতি না। আমরা ইনসাফের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
































