ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানীজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 91

রাজধানীজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানীতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অন্তত ১১টি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব যৌথভাবে নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নাশকতার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। রাজধানীর সব থানায় টহল, নজরদারি ও গৌণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা বলবৎ থাকবে—সেদিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ভোরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে, যেখানে মোটরসাইকেলযোগে এসে দুই ব্যক্তি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। মিরপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে একইভাবে হামলা চালানো হয়। ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টার ও ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকা থেকেও চারটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সন্ধ্যার দিকে মৌচাক, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবন, খিলগাঁও ফ্লাইওভার এবং মিরপুর শাহ আলী মার্কেট এলাকায় পরপর বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভার থেকে আরেকটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে শেষ বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে এক পথচারী সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, আগের দিনও কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বাসভবনের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে। শাহজাদপুর ও মেরুলবাড্ডায় ভোরে দুটি বাসে এবং সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর ডিএমপি ট্রাইব্যুনাল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ডিবি পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পাল্টা গোয়েন্দা অভিযান চলছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী প্রকাশ্যে বলেছে যে তারা তাদের নেতাদের জন্য ‘যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত’—এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে আড়াই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ককটেল হামলায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী এক ছাত্রলীগ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজধানীর মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিটি অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি–সমর্থিত একটি সংগঠন ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। নিরাপত্তা বৈঠকে সব থানাকে অতিরিক্ত টহল, সিসিটিভি তদারকি, আলো বৃদ্ধি ও জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে, মেট্রো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাজধানীজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি

সর্বশেষ আপডেট ০২:০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানীতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অন্তত ১১টি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব যৌথভাবে নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নাশকতার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। রাজধানীর সব থানায় টহল, নজরদারি ও গৌণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা বলবৎ থাকবে—সেদিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ভোরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে, যেখানে মোটরসাইকেলযোগে এসে দুই ব্যক্তি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। মিরপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে একইভাবে হামলা চালানো হয়। ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টার ও ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকা থেকেও চারটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সন্ধ্যার দিকে মৌচাক, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবন, খিলগাঁও ফ্লাইওভার এবং মিরপুর শাহ আলী মার্কেট এলাকায় পরপর বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভার থেকে আরেকটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে শেষ বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে এক পথচারী সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, আগের দিনও কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বাসভবনের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে। শাহজাদপুর ও মেরুলবাড্ডায় ভোরে দুটি বাসে এবং সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর ডিএমপি ট্রাইব্যুনাল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ডিবি পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পাল্টা গোয়েন্দা অভিযান চলছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী প্রকাশ্যে বলেছে যে তারা তাদের নেতাদের জন্য ‘যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত’—এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে আড়াই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ককটেল হামলায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী এক ছাত্রলীগ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজধানীর মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিটি অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি–সমর্থিত একটি সংগঠন ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। নিরাপত্তা বৈঠকে সব থানাকে অতিরিক্ত টহল, সিসিটিভি তদারকি, আলো বৃদ্ধি ও জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে, মেট্রো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।