দ্বিতীয় বিয়ে করলেই সাত বছরের জেল
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / 88
আসামের মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে বহুবিবাহ প্রতিরোধ বিল। এই বিলের মাধ্যমে বহুবিবাহ করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বহুবিবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার রাজ্যটির মন্ত্রিসভা বিলটির খসড়া অনুমোদন দেয়।
চলতি মাসের ২৫ তারিখ বিলটি বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা এই বিল হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বিলটি পাস হলে বহুবিবাহকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই বিল পাস হওয়ার পর আসামে কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার বিয়ে করলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে।”
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। এই আইনে গ্রেপ্তার হলে সঙ্গে সঙ্গে জামিনের সুযোগও থাকবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিলটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— বহুবিবাহের শিকার নারীদের আর্থিক সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে স্বামী জেলে গেলে ভুক্তভোগী নারীর কী হবে? অনেক সময় দেখা যায়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো, কোনো নারী যাতে আর্থিক বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তাই ক্ষতিপূরণের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করা হবে।”
তবে প্রস্তাবিত এই নতুন আইনের আওতার বাইরে থাকবেন উপজাতি জনগোষ্ঠী। আসাম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজাতিদের নিজস্ব সামাজিক প্রথা ও আইন অনুসারে ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত এলাকা, বিটিসি, কার্বিআংলং ও ডিমা হাসাও জেলায় এ আইন কার্যকর হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে আসামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে এই বিল আইনে পরিণত হলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্র: এনডিটিভি
































