ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপিকে নিয়ে মোনাফেকি করছে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 84

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, “শেখ মুজিব যখন বাকশাল গঠন করে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখন তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। অথচ আজ তারা সেই বিএনপিকে নিয়েই মোনাফেকি করছে, যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।”

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন বিএনপির এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

সমাবেশস্থলে তার আগমনের আগে থেকেই শ্রীকাইল কলেজ মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেন। উপস্থিত জনতা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কায়কোবাদের নামে স্লোগান দেন।

কায়কোবাদ বলেন, “১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের ক্ষমতায় এনে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাদের আবার আমাদের সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং ১৮টি আসনে সুযোগ দিয়েছিলেন, যা তারা আর কখনো পায়নি। কিন্তু এত সুযোগ পাওয়ার পরও তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দিয়েছিল। তখন তারা নিজেদের দলকে শক্তিশালী করেছে। অথচ এখন তারা বিএনপিকে নিয়েই নানা মন্তব্য করছে। এটা কৃতঘ্নতার পরিচায়ক।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কায়কোবাদ বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা মামলা-হামলায় নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন—তাদের প্রতিদান ইনশাআল্লাহ দেব। আমি আজকের শ্রীকাইলের বিশাল উপস্থিতি দেখে অভিভূত। আমি আপনাদের কামলা, আপনাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই।”

তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, “২০০১ সালের নির্বাচনেও আপনারা আমাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি হজে ছিলাম। তখন অনেকে বলেছিল, আমি না থাকলে নির্বাচন কীভাবে হবে? আমি বলেছিলাম, আল্লাহই দেখবেন। সত্যিই তাই হয়েছে—আমি হজ থেকে ফিরে অল্প সময়ে প্রচারণা চালিয়েই জয়ী হয়েছি।”

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এখন আবার নির্বাচন আসছে। একটি ইসলামী দল অংশ নিয়েছে, আরও দল অংশ নেবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এখন বিভিন্ন জায়গায় বিএনপিকে নিয়ে নানা কথা বলছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তাদের অনেক সহযোগিতা করেছি, কিন্তু তারা সেটা ভুলে গেছে।”

স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, “মুরাদনগর থেকে শ্রীকাইল পর্যন্ত রাস্তাঘাটগুলো একসময় চলাচলের অনুপযোগী ছিল। আমি ক্ষমতায় থাকাকালে এসব রাস্তা উন্নয়ন করেছি। কিন্তু গত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কিছুই করেনি। আমার সময় টিআর প্রকল্পে নিয়মিত বরাদ্দ ছিল, কিন্তু এখন সেই টাকা কোথায় গেল—সব মেরে দিয়েছে চোরের দল।”

তিনি জনতার উদ্দেশে আহ্বান জানান, “আপনারা আগামী নির্বাচনে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। প্রমাণ করবেন, ধানের শীষই জনগণের প্রতীক। আমাদের নেতা তারেক রহমানকেও আপনারা আগের মতোই ভালোবাসবেন।”

নিজের জীবনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে কায়কোবাদ বলেন, “আমি বিদেশে থাকার সময় আমার মায়ের জানাজায় থাকতে পারিনি, কিন্তু শ্রীকাইলের মানুষ লক্ষাধিক উপস্থিত হয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে। আপনারা আমার পরিবারের মতো। আমি আবারও আপনাদের কামলা হয়ে কাজ করতে চাই।”

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী, ব্যবসায়ী কাজী জুননুন বসরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদুল ইসলাম।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএনপিকে নিয়ে মোনাফেকি করছে জামায়াত

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, “শেখ মুজিব যখন বাকশাল গঠন করে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখন তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। অথচ আজ তারা সেই বিএনপিকে নিয়েই মোনাফেকি করছে, যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।”

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন বিএনপির এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

সমাবেশস্থলে তার আগমনের আগে থেকেই শ্রীকাইল কলেজ মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেন। উপস্থিত জনতা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কায়কোবাদের নামে স্লোগান দেন।

কায়কোবাদ বলেন, “১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের ক্ষমতায় এনে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাদের আবার আমাদের সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং ১৮টি আসনে সুযোগ দিয়েছিলেন, যা তারা আর কখনো পায়নি। কিন্তু এত সুযোগ পাওয়ার পরও তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দিয়েছিল। তখন তারা নিজেদের দলকে শক্তিশালী করেছে। অথচ এখন তারা বিএনপিকে নিয়েই নানা মন্তব্য করছে। এটা কৃতঘ্নতার পরিচায়ক।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কায়কোবাদ বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা মামলা-হামলায় নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন—তাদের প্রতিদান ইনশাআল্লাহ দেব। আমি আজকের শ্রীকাইলের বিশাল উপস্থিতি দেখে অভিভূত। আমি আপনাদের কামলা, আপনাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই।”

তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, “২০০১ সালের নির্বাচনেও আপনারা আমাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি হজে ছিলাম। তখন অনেকে বলেছিল, আমি না থাকলে নির্বাচন কীভাবে হবে? আমি বলেছিলাম, আল্লাহই দেখবেন। সত্যিই তাই হয়েছে—আমি হজ থেকে ফিরে অল্প সময়ে প্রচারণা চালিয়েই জয়ী হয়েছি।”

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এখন আবার নির্বাচন আসছে। একটি ইসলামী দল অংশ নিয়েছে, আরও দল অংশ নেবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এখন বিভিন্ন জায়গায় বিএনপিকে নিয়ে নানা কথা বলছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তাদের অনেক সহযোগিতা করেছি, কিন্তু তারা সেটা ভুলে গেছে।”

স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, “মুরাদনগর থেকে শ্রীকাইল পর্যন্ত রাস্তাঘাটগুলো একসময় চলাচলের অনুপযোগী ছিল। আমি ক্ষমতায় থাকাকালে এসব রাস্তা উন্নয়ন করেছি। কিন্তু গত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কিছুই করেনি। আমার সময় টিআর প্রকল্পে নিয়মিত বরাদ্দ ছিল, কিন্তু এখন সেই টাকা কোথায় গেল—সব মেরে দিয়েছে চোরের দল।”

তিনি জনতার উদ্দেশে আহ্বান জানান, “আপনারা আগামী নির্বাচনে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। প্রমাণ করবেন, ধানের শীষই জনগণের প্রতীক। আমাদের নেতা তারেক রহমানকেও আপনারা আগের মতোই ভালোবাসবেন।”

নিজের জীবনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে কায়কোবাদ বলেন, “আমি বিদেশে থাকার সময় আমার মায়ের জানাজায় থাকতে পারিনি, কিন্তু শ্রীকাইলের মানুষ লক্ষাধিক উপস্থিত হয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে। আপনারা আমার পরিবারের মতো। আমি আবারও আপনাদের কামলা হয়ে কাজ করতে চাই।”

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী, ব্যবসায়ী কাজী জুননুন বসরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সমাবেশের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদুল ইসলাম।