ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিত্রদের জন্য যেসব আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 116

বিএনপি ও মিত্র

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে কিছু আসনে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর বাকি আসনগুলো মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ভাগ করা হবে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সর্বোচ্চ ৪০টি আসনে শরিকদের ছাড় দিতে পারে। বর্তমানে এই আসনগুলো নিয়ে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের দরকষাকষি ও আলোচনা।

বিএনপি চায়, যারা গত এক বছরে যুগপৎ আন্দোলনে তাদের পাশে ছিল, সেই দলগুলোকেই নির্বাচনে অংশীদার করতে। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বনির্ভর নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকার ফাঁকা আসনগুলো নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে। এসব আসনের কিছুতে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শেষ পর্যন্ত “ধানের শীষ” প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তাদের আগ্রহী আসনে আমরা প্রার্থী দিইনি। তারা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করবেন, তখন আমরা তা চূড়ান্ত করব।”

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনি জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এখনো কোনো আসন সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জোট বা সমঝোতা আদর্শিক অবস্থান থেকেই হতে পারে। আমাদের জুলাই সনদ ও সংস্কারের দাবির সঙ্গে কেউ সংহতি প্রকাশ করলে আমরা তা বিবেচনা করব। তবে এখন পর্যন্ত আমরা স্বাধীনভাবে এগোচ্ছি।”

এরই মধ্যে বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, “জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে প্রার্থীতার বিষয়টিও একসঙ্গে জানানো হবে। মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছি।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গুলশান-বনানী এলাকায় (ঢাকা-১৭ আসন) প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, ঢাকার আরও কয়েকটি আসন মিত্রদের জন্য বিবেচনায় রয়েছে, তবে কোনগুলো তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তাদের ভাষায়, “এনসিপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে। গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীর জন্য একটি আসন বিবেচনায় আছে। একইভাবে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হককেও একটি আসন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

বিএনপির নেতারা আরও জানান, ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) এবং ঢাকা-১৮ (উত্তরা)। একটি আসন ছাড় দিলে বাকিগুলো রাখার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে চাপ রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, মিত্র দলের অন্তত ১৪ জন শীর্ষ নেতার আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আসনই ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেন—

পিরোজপুর-১: জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার

বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

ঢাকা-১৭: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ

লক্ষ্মীপুর-১: এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম

কিশোরগঞ্জ-৫: বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা

লক্ষ্মীপুর-৪: জেএসডির তানিয়া রব

ঢাকা-১৩: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি

চট্টগ্রাম-১৪: এলডিপি নেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক (কর্নেল অলি আহমদের পুত্র)

কুমিল্লা-৭: এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ

নড়াইল-২: এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

ঝিনাইদহ-২: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান

ঝালকাঠি-১: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছি, এটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত।”
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিত্রদের জন্য যেসব আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে কিছু আসনে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর বাকি আসনগুলো মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ভাগ করা হবে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সর্বোচ্চ ৪০টি আসনে শরিকদের ছাড় দিতে পারে। বর্তমানে এই আসনগুলো নিয়ে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের দরকষাকষি ও আলোচনা।

বিএনপি চায়, যারা গত এক বছরে যুগপৎ আন্দোলনে তাদের পাশে ছিল, সেই দলগুলোকেই নির্বাচনে অংশীদার করতে। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বনির্ভর নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকার ফাঁকা আসনগুলো নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে। এসব আসনের কিছুতে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শেষ পর্যন্ত “ধানের শীষ” প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তাদের আগ্রহী আসনে আমরা প্রার্থী দিইনি। তারা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করবেন, তখন আমরা তা চূড়ান্ত করব।”

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনি জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এখনো কোনো আসন সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জোট বা সমঝোতা আদর্শিক অবস্থান থেকেই হতে পারে। আমাদের জুলাই সনদ ও সংস্কারের দাবির সঙ্গে কেউ সংহতি প্রকাশ করলে আমরা তা বিবেচনা করব। তবে এখন পর্যন্ত আমরা স্বাধীনভাবে এগোচ্ছি।”

এরই মধ্যে বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, “জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে প্রার্থীতার বিষয়টিও একসঙ্গে জানানো হবে। মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছি।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গুলশান-বনানী এলাকায় (ঢাকা-১৭ আসন) প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, ঢাকার আরও কয়েকটি আসন মিত্রদের জন্য বিবেচনায় রয়েছে, তবে কোনগুলো তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তাদের ভাষায়, “এনসিপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে। গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীর জন্য একটি আসন বিবেচনায় আছে। একইভাবে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হককেও একটি আসন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

বিএনপির নেতারা আরও জানান, ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) এবং ঢাকা-১৮ (উত্তরা)। একটি আসন ছাড় দিলে বাকিগুলো রাখার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে চাপ রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, মিত্র দলের অন্তত ১৪ জন শীর্ষ নেতার আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আসনই ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেন—

পিরোজপুর-১: জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার

বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

ঢাকা-১৭: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ

লক্ষ্মীপুর-১: এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম

কিশোরগঞ্জ-৫: বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা

লক্ষ্মীপুর-৪: জেএসডির তানিয়া রব

ঢাকা-১৩: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি

চট্টগ্রাম-১৪: এলডিপি নেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক (কর্নেল অলি আহমদের পুত্র)

কুমিল্লা-৭: এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ

নড়াইল-২: এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

ঝিনাইদহ-২: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান

ঝালকাঠি-১: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছি, এটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত।”
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”