পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
ইন্টারনেটে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ালে ৯৯ কোটি টাকা জরিমানা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 66
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নতুন করে প্রণীত ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে টেলিযোগাযোগ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৯৯ কোটি টাকা জরিমানা বা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড—অথবা উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়াটি জনমত গ্রহণের জন্য বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও অংশীজনেরা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মতামত জমা দিতে পারবেন।
গুরুতর অপরাধ ও শাস্তি
অধ্যাদেশের ৬৬(ক) ধারা অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিম্নলিখিত কাজগুলো করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে:
ধর্মীয়, জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার করা, যা সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বা জনশৃঙ্খলা বিপন্ন করা।
কৌশলগত ফাইবার নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার বা টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সার্ভার সিস্টেম হ্যাক বা ক্ষতিগ্রস্ত করা।
রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস বা এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা ব্যাহত করা।
বাল্ক এসএমএস, এআই-ভিত্তিক কল প্রতারণা বা পরিচয় চুরি করে অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করা।
এই ধারার আওতায় কোনো টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যদি নিয়ন্ত্রক কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে, তাহলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যান্য অপরাধ ও শাস্তির বিধান
খসড়ায় আরও কিছু অপরাধের জন্য পৃথক ধারা যুক্ত করা হয়েছে—
ধারা ৬৯(ক): ভয় দেখানো, অশ্লীল বা অপমানজনক বার্তা পাঠানো কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ছবি বা বার্তা প্রেরণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদণ্ড হতে পারে।
সাধারণ অশ্লীল বার্তা পাঠালে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা দেড় কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
ধারা ৭০: যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বারবার ফোন করে কাউকে বিরক্ত করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা ৬ মাস কারাদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশটির মাধ্যমে সরকার টেলিযোগাযোগ খাতে অনলাইন নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
































