ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার শব্দদূষণ: মানসিক স্বাস্থ্যের নতুন হুমকি

ইবাহ্রিম ওয়ালিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 54

ঢাকার শব্দদূষণ: মানসিক স্বাস্থ্যের নতুন হুমকি

ঢাকার জীবন মানেই এক অবিরাম শব্দের স্রোত- ট্রাফিকের হর্ন, বাজারের তীব্র ভিড়, রিকশার বেল, নির্মাণস্থলের ড্রিল এবং মেশিনের কর্কশ আওয়াজ। এই শব্দগুলি শুধু কানে এসে থামে না; সেগুলি যেন আমাদের নার্ভাস সিস্টেমে সরাসরি আঘাত করে। প্রতিদিন মাথার ভেতর যেন একসঙ্গে হাজারটা আওয়াজ বাজতে থাকে, যা আমাদের মনকে করে তোলে ক্লান্ত ও উত্তেজিত।

দৈনন্দিন এই শব্দদূষণ আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে মন ও স্নায়ুতন্ত্রের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত শব্দদূষণ কেবল শ্রবণশক্তি হ্রাস করে না, এটি সরাসরি মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ, এবং ঘুমের সমস্যার অন্যতম কারণ।

এই অবিরাম শব্দকে মস্তিষ্ক বিপদ হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে আমাদের শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন বৃদ্ধির কারণে মন হয়ে পড়ে অসহ্য রকম বিরক্ত, মেজাজ খিটখিটে, এবং চরমভাবে ক্লান্ত।

অনেকেই জানেন না, Noise Sensitivity বা শব্দে অতিসংবেদনশীলতা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এর অর্থ হলো, আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উদ্দীপনা গ্রহণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। আমরা হয়তো খেয়াল করিনি, কিন্তু এই শব্দের প্রভাব আমাদের মনোজগতে সুদূরপ্রসারী।

হঠাৎ জোরে হর্ন বাজলে আমাদের বুক ধক করে ওঠে- যা স্নায়ুতন্ত্রের অতিরিক্ত সতর্কতার লক্ষণ। সামান্য তর্ক বা উচ্চ আওয়াজেই মাথা ধরে যায়- যা মানসিক অতিরিক্ত চাপের সংকেত। এটাই হলো Emotional Overload, যখন মস্তিষ্ক বাইরের শব্দের উপর কোনো ‘বন্ধ করার বাটন’ খুঁজে পায় না এবং ক্রমাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে থাকে।

যদিও ঢাকার শব্দের উৎস রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবুও নিজেদের মানসিক শান্তি রক্ষায় ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। মন ও নার্ভাস সিস্টেমকে বাঁচানোর জন্য সচেতনতাই প্রথম পদক্ষেপ।

কখন আপনার অসহ্য লাগছে, সেই সীমাটি চিহ্নিত করুন এবং প্রয়োজনে সেই স্থান এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট নীরবতা অভ্যাসের তালিকায় যোগ করুন। এই সময় কোনো ডিভাইস বা আওয়াজ নয়। ঘুমানোর আগে বা বিশ্রামের সময় Nature Sound বা Soft Instrumental সঙ্গীত শুনে মনকে শান্ত করুন। কর্মক্ষেত্রে বা ভ্রমণে প্রয়োজন অনুযায়ী Noise-Cancelling Headphone ব্যবহার করে কানের উপর চাপ কমান।

মনে রাখতে হবে, আপনার মনও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই যত্নের দাবি রাখে। নীরবতার কয়েকটি মুহূর্ত, নিজের ‘শব্দের সীমা’ জানা, এবং প্রাকৃতিক শব্দের সাথে সময় কাটানো-এগুলো শুধু শান্তির সময় এনে দেয় না, বরং মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ ও বার্নআউট কমাতে সহায়তা করে। ঢাকার এই কঠিন বাস্তবতায়, নিজের মনকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকার শব্দদূষণ: মানসিক স্বাস্থ্যের নতুন হুমকি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার জীবন মানেই এক অবিরাম শব্দের স্রোত- ট্রাফিকের হর্ন, বাজারের তীব্র ভিড়, রিকশার বেল, নির্মাণস্থলের ড্রিল এবং মেশিনের কর্কশ আওয়াজ। এই শব্দগুলি শুধু কানে এসে থামে না; সেগুলি যেন আমাদের নার্ভাস সিস্টেমে সরাসরি আঘাত করে। প্রতিদিন মাথার ভেতর যেন একসঙ্গে হাজারটা আওয়াজ বাজতে থাকে, যা আমাদের মনকে করে তোলে ক্লান্ত ও উত্তেজিত।

দৈনন্দিন এই শব্দদূষণ আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে মন ও স্নায়ুতন্ত্রের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত শব্দদূষণ কেবল শ্রবণশক্তি হ্রাস করে না, এটি সরাসরি মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ, এবং ঘুমের সমস্যার অন্যতম কারণ।

এই অবিরাম শব্দকে মস্তিষ্ক বিপদ হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে আমাদের শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন বৃদ্ধির কারণে মন হয়ে পড়ে অসহ্য রকম বিরক্ত, মেজাজ খিটখিটে, এবং চরমভাবে ক্লান্ত।

অনেকেই জানেন না, Noise Sensitivity বা শব্দে অতিসংবেদনশীলতা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এর অর্থ হলো, আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উদ্দীপনা গ্রহণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। আমরা হয়তো খেয়াল করিনি, কিন্তু এই শব্দের প্রভাব আমাদের মনোজগতে সুদূরপ্রসারী।

হঠাৎ জোরে হর্ন বাজলে আমাদের বুক ধক করে ওঠে- যা স্নায়ুতন্ত্রের অতিরিক্ত সতর্কতার লক্ষণ। সামান্য তর্ক বা উচ্চ আওয়াজেই মাথা ধরে যায়- যা মানসিক অতিরিক্ত চাপের সংকেত। এটাই হলো Emotional Overload, যখন মস্তিষ্ক বাইরের শব্দের উপর কোনো ‘বন্ধ করার বাটন’ খুঁজে পায় না এবং ক্রমাগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে থাকে।

যদিও ঢাকার শব্দের উৎস রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবুও নিজেদের মানসিক শান্তি রক্ষায় ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। মন ও নার্ভাস সিস্টেমকে বাঁচানোর জন্য সচেতনতাই প্রথম পদক্ষেপ।

কখন আপনার অসহ্য লাগছে, সেই সীমাটি চিহ্নিত করুন এবং প্রয়োজনে সেই স্থান এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট নীরবতা অভ্যাসের তালিকায় যোগ করুন। এই সময় কোনো ডিভাইস বা আওয়াজ নয়। ঘুমানোর আগে বা বিশ্রামের সময় Nature Sound বা Soft Instrumental সঙ্গীত শুনে মনকে শান্ত করুন। কর্মক্ষেত্রে বা ভ্রমণে প্রয়োজন অনুযায়ী Noise-Cancelling Headphone ব্যবহার করে কানের উপর চাপ কমান।

মনে রাখতে হবে, আপনার মনও শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই যত্নের দাবি রাখে। নীরবতার কয়েকটি মুহূর্ত, নিজের ‘শব্দের সীমা’ জানা, এবং প্রাকৃতিক শব্দের সাথে সময় কাটানো-এগুলো শুধু শান্তির সময় এনে দেয় না, বরং মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ ও বার্নআউট কমাতে সহায়তা করে। ঢাকার এই কঠিন বাস্তবতায়, নিজের মনকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ