ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত

পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 88

৫ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক মার্জার বা একীভূত করতে এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (৫ নভেম্বর) ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে এগুলো পরিচালিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গভর্নরের জরুরি তলব করা হয়েছে। বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো জানানো হবে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবদের এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাবেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। বহুবার তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজার মূল্য মারাত্মকভাবে নেমেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত

পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক মার্জার বা একীভূত করতে এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (৫ নভেম্বর) ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে এগুলো পরিচালিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গভর্নরের জরুরি তলব করা হয়েছে। বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো জানানো হবে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবদের এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাবেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। বহুবার তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজার মূল্য মারাত্মকভাবে নেমেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।