ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ এলাকা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 80

হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ এলাকা ঘোষণা

প্রাকৃতিকভাবে রুইজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রামের হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। এখন থেকে ডিম আহরণের সময় ছাড়া এ নদী থেকে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা যাবে না।

বুধবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। নদীটির রুইজাতীয় মাছের প্রজাতি কৌলিন্যগতভাবে বিশুদ্ধ। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ নদীর বিভিন্ন স্থানে রুইজাতীয় মাছ প্রজনন করে এবং প্রচুর পরিমাণে নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়। হালদা নদী একই সঙ্গে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনেরও আবাসস্থল।

রুইজাতীয় মাছের প্রজনন ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ জলজ প্রাণীর আবাস রক্ষায় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে হালদা নদী ও এর আশপাশের ২৩ হাজার ৪২২ একর এলাকা ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, পাঁচলাইশ থানা এবং খাগড়াছড়ির রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার নদী অংশ অন্তর্ভুক্ত।

গেজেট অনুযায়ী, হালদা নদী ব্যবহারে নিম্নলিখিত বিধিনিষেধ মানতে হবে—

১. ডিম আহরণের সময় ছাড়া নদী থেকে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা যাবে না।
২. প্রাণী বা উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয় এমন কোনো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ।
৩. ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যাবে না।
৪. মাছ, ডলফিন ও জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ করা যাবে না।
৫. নদীর আশপাশের বসতবাড়ি বা শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য ফেলা যাবে না।
৬. নদীর বাঁক কেটে সোজা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৭. প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি–জুলাই) সংযুক্ত ১৭টি খালে মাছ ধরা যাবে না।
৮. হালদা ও সংযোগ খালে নতুন কোনো রাবার ড্যাম বা কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না।
৯. তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া নতুন পানি শোধনাগার বা সেচ প্রকল্প নেওয়া যাবে না।
১০. দেশি-বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া নদীতে গবেষণা চালাতে পারবে না।
১১. মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়—এমনভাবে পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
১২. কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান, যেমন বালুবাহী বা পণ্যবাহী নৌকা, চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
১৩. হালদা ও তার শাখা নদীর কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া বা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
১৪. নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ করা নিষিদ্ধ।
১৫. কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
১৬. নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

এই ঘোষণার মাধ্যমে হালদা নদী দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত ‘মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো, যা নদী ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ এলাকা ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

প্রাকৃতিকভাবে রুইজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রামের হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। এখন থেকে ডিম আহরণের সময় ছাড়া এ নদী থেকে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা যাবে না।

বুধবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী রুইজাতীয় মাছের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। নদীটির রুইজাতীয় মাছের প্রজাতি কৌলিন্যগতভাবে বিশুদ্ধ। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ নদীর বিভিন্ন স্থানে রুইজাতীয় মাছ প্রজনন করে এবং প্রচুর পরিমাণে নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়। হালদা নদী একই সঙ্গে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনেরও আবাসস্থল।

রুইজাতীয় মাছের প্রজনন ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ জলজ প্রাণীর আবাস রক্ষায় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে হালদা নদী ও এর আশপাশের ২৩ হাজার ৪২২ একর এলাকা ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, পাঁচলাইশ থানা এবং খাগড়াছড়ির রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার নদী অংশ অন্তর্ভুক্ত।

গেজেট অনুযায়ী, হালদা নদী ব্যবহারে নিম্নলিখিত বিধিনিষেধ মানতে হবে—

১. ডিম আহরণের সময় ছাড়া নদী থেকে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা যাবে না।
২. প্রাণী বা উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয় এমন কোনো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ।
৩. ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যাবে না।
৪. মাছ, ডলফিন ও জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ করা যাবে না।
৫. নদীর আশপাশের বসতবাড়ি বা শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য ফেলা যাবে না।
৬. নদীর বাঁক কেটে সোজা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৭. প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি–জুলাই) সংযুক্ত ১৭টি খালে মাছ ধরা যাবে না।
৮. হালদা ও সংযোগ খালে নতুন কোনো রাবার ড্যাম বা কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না।
৯. তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া নতুন পানি শোধনাগার বা সেচ প্রকল্প নেওয়া যাবে না।
১০. দেশি-বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া নদীতে গবেষণা চালাতে পারবে না।
১১. মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়—এমনভাবে পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
১২. কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান, যেমন বালুবাহী বা পণ্যবাহী নৌকা, চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
১৩. হালদা ও তার শাখা নদীর কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া বা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
১৪. নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ করা নিষিদ্ধ।
১৫. কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
১৬. নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

এই ঘোষণার মাধ্যমে হালদা নদী দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত ‘মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো, যা নদী ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।