বিএনপি-জামায়াত সমঝোতার জন্য সরকারের পর্দার আড়ালের চেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / 91
আগামী জাতীয় নির্বাচনের বড় শক্তি হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে পর্দার আড়ালে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে চারজন উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
২৮ অক্টোবর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়ার পর দলগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে অবস্থান দৃঢ় হয়ে ওঠে। এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মন্তব্য করছে।
সরকার সমঝোতার জন্য দুটি প্রস্তাব সামনে রেখে আলোচনা শুরু করেছে। একে হলো—বিএনপিকে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন মেনে নেওয়ার অনুরোধ। অন্যটি হলো—জামায়াতকে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মেনে নেওয়ার পরামর্শ। তবে উভয় পক্ষ এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়।
এই পরিস্থিতিতে সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডন থেকে যোগাযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর বেশির ভাগ বক্তব্য সত্য নয়, কিন্তু প্রকাশ্যে তাদের সঙ্গে বিরোধে যেতে চাইছে না।
গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সরকার বিব্রত। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধ মেটাতে পর্দার আড়ালে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে চারজন উপদেষ্টা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমঝোতা হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি হতে পারে।
উপদেষ্টা পরিষদ কয়েকটি বিকল্প ভাবছে—
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না করে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর ছেড়ে দেওয়া।
২. জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে আয়োজনের পক্ষে অধিকাংশ উপদেষ্টা।
৩. জুলাই সনদে প্রধান উপদেষ্টার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা।
তবে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঢাকা নেতৃত্ব বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, তাই লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকারের উপদেষ্টারা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সমঝোতার চেষ্টা করবেন। তবে তাদের দলীয় অবস্থান হলো আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে, তাই জামায়াত কোনো ছাড় দেবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআর মানলে জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট মেনে নেবেন কি না—এটি দুটি ভিন্ন বিষয়। ঐক্যের স্বার্থে দলীয় ছাড় দিয়েছে, কিন্তু দেশ ও জনগণের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
































