ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 104

জামায়াত

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে আনা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সম্পৃক্ততা’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। জামায়াত বলেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শনিবার (২ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিভ্রান্তিকর ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী সহকারী সচিব জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “একাত্তরে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কারণে জামায়াতে ইসলামীকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।” এ বক্তব্য জাতীয় ঐক্যবিনষ্টকারী, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কাউকে খুশি করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বক্তব্যে কর্তৃত্ববাদী ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুর ধ্বনিত হচ্ছে। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সম্পৃক্ততা’ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এই ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ের জনগণ এসব মিথ্যাচার সম্পর্কে সচেতন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার এই বিভাজনমূলক বক্তব্য জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী। দেশের রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে যখন জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহনশীলতার প্রয়োজন, তখন এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, যার নীতি ও আদর্শ ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়নীতি ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। জামায়াত সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। অতএব, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক এবং বিদ্বেষপ্রসূত।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্য এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী, বিদ্বেষপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য আমি জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের প্রতি আহ্বান জানাই।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে আনা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সম্পৃক্ততা’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। জামায়াত বলেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শনিবার (২ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিভ্রান্তিকর ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী সহকারী সচিব জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “একাত্তরে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কারণে জামায়াতে ইসলামীকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।” এ বক্তব্য জাতীয় ঐক্যবিনষ্টকারী, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কাউকে খুশি করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বক্তব্যে কর্তৃত্ববাদী ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুর ধ্বনিত হচ্ছে। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘একাত্তরের হত্যাযজ্ঞে সম্পৃক্ততা’ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এই ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ের জনগণ এসব মিথ্যাচার সম্পর্কে সচেতন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার এই বিভাজনমূলক বক্তব্য জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী। দেশের রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে যখন জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহনশীলতার প্রয়োজন, তখন এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, যার নীতি ও আদর্শ ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়নীতি ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। জামায়াত সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। অতএব, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক এবং বিদ্বেষপ্রসূত।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্য এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী, বিদ্বেষপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য আমি জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের প্রতি আহ্বান জানাই।’