নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে নারী ক্রিকেটবিশ্ব
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / 107
ভারতীয় ক্রিকেটে একসময় ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচিত হলেও জাতীয় দলে জায়গা পাননি অমল মজুমদার। শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি বা রাহুল দ্রাবিড়দের প্রজন্মে থেকেও ভাগ্য খুলেনি তাঁর। তবে ক্রিকেট ছাড়েননি তিনি; বরং হয়ে উঠেছেন ক্রিকেটার তৈরির কারিগর। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী এই সাবেক ব্যাটার ভারতীয় নারী দলের প্রধান কোচ। তাঁর নেতৃত্বেই আজ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত, প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।
আজ শনিবার (১ নভেম্বর) মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। অমলের শিষ্য হারমানপ্রীত কাউর, স্মৃতি মান্ধানা ও জেমিমা রদ্রিগেজদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। লরা উলভার্ট, ননকুলুলেকো এমবালা ও নাদিন ডি ক্লার্কদের নিয়ে গড়া প্রোটিয়া দল প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলছে। অন্যদিকে ভারত ২০০৫ ও ২০১৭ সালের পর তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে। এর আগে ১২ আসরে সাতবার অস্ট্রেলিয়া, চারবার ইংল্যান্ড এবং একবার নিউজিল্যান্ড নারী বিশ্বকাপ জিতেছে। আজকের ম্যাচে তাই নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে ক্রিকেটবিশ্ব।
ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলই গত বছর পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার ব্রিজটাউনে ভারত ৭ রানে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এবার নারী দলগুলো লড়বে নতুন ইতিহাস গড়ার জন্য।
কোচ অমলের অনুপ্রেরণা
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ভারতীয় নারীরা মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষ ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর তোলে। ফিল্ডিং শেষে কোচ অমল কোনো কথা না বলে কেবল সাদা কাগজে লিখে রাখেন— “অস্ট্রেলিয়া যত রান করেছে, আমাদের শুধু তার চেয়ে ১ রান বেশি করতে হবে।” হারমানপ্রীত ও জেমিমা সেই কথার অনুপ্রেরণায় দলকে এগিয়ে নেন। জেমিমার ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস ও হারমানের ৮৯ রানের অধিনায়কোচিত পারফরম্যান্সে ভারত ৩৩৯ রান তাড়া করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতকে অনেকে ‘আন্ডারডগ’ ভাবলেও সেমিফাইনালে খেলেছে ফেভারিটের মতো আত্মবিশ্বাসে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অপ্রত্যাশিত উত্থান
অন্য সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একইভাবে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয়ে ১০ উইকেটে হেরেছিল তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে যেন অন্য দল! অধিনায়ক লরা উলভার্টের ১৬৯ রানে ভর করে ৩১৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডকে হারায় ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে।
উলভার্ট এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা পারফর্মারদের একজন— ৮ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে করেছেন ৪৭০ রান।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াই
গ্রুপ পর্বে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে প্রোটিয়ারা ৩ উইকেটে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে উলভার্ট করেন ৭০ রান, আর নাদিন ডি ক্লার্ক ব্যাটে ৮৪* রান ও বলে নেন ২ উইকেট। ভারতের হয়ে রিচা ঘোষ ৯৪ রান করেও দলকে জেতাতে পারেননি।
ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধারাবাহিকতা আছে— সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ৮ ইনিংসে ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ৩৮৯ রান করেছেন। প্রাতিকা রাওয়াল ৩০৪, জেমিমা ২৬৮ ও অধিনায়ক হারমান ২৪০ রান করেছেন। বোলিং বিভাগে অফ স্পিনার দীপ্তি শর্মা ১৮ উইকেট ও বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চারাানি নিয়েছেন ১৩ উইকেট।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং প্রায় একাই টানছেন উলভার্ট। তাঁকে কিছুটা সহায়তা দিয়েছেন ম্যারিজান ক্যাপ (২০৪), নাদিন ডি ক্লার্ক (১৯০), ট্রাইওন (১৬৭) ও লুওস (১৫৮)। বোলিংয়ে নাদিন ডি ক্লার্ক এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৮ উইকেট।
ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় মুম্বাই
নারী ক্রিকেটে আজ নতুন অধ্যায় লেখা হবে। ২০০৫ ও ২০১৭ সালে শিরোপা হাতছোঁয়া দূরত্বে হারিয়ে এবার ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে উজ্জীবিত ভারতীয়রা। আর প্রথমবার ফাইনালে উঠেই ট্রফি জিতে চমক দিতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
কে হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন— হারমানদের ভারত, নাকি উলভার্টের দক্ষিণ আফ্রিকা— সেই উত্তর মিলবে আজ বিকেলেই।



































