হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 78
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নতুন নিরাপত্তাবিধি কার্যকর হওয়ায় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ও তার শীর্ষ সহকারীদের অফিসসহ ওয়েস্ট উইংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে সাংবাদিকরা পূর্বানুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারবেন না।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রুম ১৪০—যা আপার প্রেস হিসেবে পরিচিত—এ প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের আগে থেকে সময় নির্ধারণ করতে হবে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি গঠনগত পরিবর্তনের পর এনএসসি ও হোয়াইট হাউস যোগাযোগ টিমের কাছে থাকা সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউস যোগাযোগ টিমের সমন্বয় বজায় রাখা এবং সংবেদনশীল উপকরণ সুরক্ষার স্বার্থে সাংবাদিকদের পূর্ব অনুমতি ছাড়া রুম ১৪০-এ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রেস সেক্রেটারি অফিসের আশেপাশের এলাকা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য যাচাই বা মন্তব্য নিতে পারতেন। আগে সাংবাদিকরা লেভিট, তার ডেপুটি স্টিভেন চুয়েংসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারতেন, যা হোয়াইট হাউস সংবাদ কাভারেজের একটি ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি চুয়েং এক্স-এ পোস্ট করে জানান, কিছু সাংবাদিক অনুমতি ছাড়া অফিসের ভিডিও ও অডিও ধারণ করেছেন এবং গোপন তথ্যের ছবি তুলেছেন। কেউ কেউ সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছেন, আবার কেউ বন্ধ দরজার মিটিংয়ে আড়ি পাতার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তরের বাইরে অপেক্ষা করে হঠাৎ প্রশ্ন করছেন।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ওয়েইজিয়া জিয়াং বলেন,
“সাংবাদিকদের ঐতিহ্যগতভাবে উন্মুক্ত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার জন্য বড় ধাক্কা। প্রেস সেক্রেটারির অফিসে প্রবেশাধিকার সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে অপরিহার্য।”
তবে সাংবাদিকরা এখনও হোয়াইট হাউসের অন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন, যেখানে নিম্নস্তরের যোগাযোগকর্মীরা কাজ করেন।
এই নির্দেশনা আসে পেন্টাগনের নতুন মিডিয়া নীতির পরপরই। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের নতুন নিয়মে সই না করায় অনেক সংবাদমাধ্যমকে তাদের অফিস থেকে সরে যেতে হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব সাংবাদিককে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে ধরা হবে বা যারা সংবেদনশীল তথ্য জানতে চাইবেন, তাদের প্রেস অ্যাক্সেস বাতিল করা যেতে পারে।
রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ব্লুমবার্গসহ অন্তত ৩০টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটন প্রশাসনও সাময়িকভাবে ওয়েস্ট উইংয়ে সাংবাদিক প্রবেশ সীমিত করেছিল, কিন্তু জনমতের চাপে দ্রুত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের মেয়াদেও রয়টার্স, এপি ও ব্লুমবার্গের মতো বড় সংস্থাগুলোকে স্থায়ী প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে অস্থায়ীভাবে কাভারেজের সুযোগ পেয়েছিল।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনের সংবাদমাধ্যমবিরোধী মনোভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রেস স্বাধীনতা রক্ষাকারী সংগঠনগুলো হোয়াইট হাউসকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এক জ্যেষ্ঠ সংবাদদাতা বলেন, “যখন সাংবাদিকরা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ভবনের কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন না, তখন জনগণের জানার অধিকারও সীমিত হয়ে পড়ে।”































