ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকতার মানদণ্ড বহন করছে না রয়টার্স: উপ-প্রেস সচিব

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 109

সাংবাদিকতার মানদণ্ড বহন করছে না রয়টার্স: উপ-প্রেস সচিব

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের পূর্বের সাংবাদিকতার মানদণ্ড আর বহন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। বিশেষ করে বাংলাদেশকে নিয়ে সংস্থাটির সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ভুল, পক্ষপাত এবং উদাসীনতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আজাদ মজুমদার লিখেছেন, “আমি রয়টার্সের সঙ্গে সাত বছর ধরে কাজ করেছি, তাই তাদের সম্পাদকীয় শৈলী ও পেশাগত নীতির সঙ্গে ভালোভাবেই পরিচিত। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সংস্থাটি এখন তাদের সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ মান থেকে বিচ্যুত হয়েছে—এটি একটি প্রবণতা, যা বাংলাদেশের কভারেজে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত দেড় বছরে রয়টার্স বাংলাদেশ সম্পর্কিত অন্তত তিনটি গুরুতর ভুল করেছে।

প্রথমত, তারা এক আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি ভুয়া উদ্ধৃতি প্রকাশ করে এবং ভুলভাবে নিহত ব্যক্তিকে একজন আটক প্রাক্তন ইস্কন নেতার আইনজীবী হিসেবে চিহ্নিত করে।

দ্বিতীয়ত, একই প্রতিবেদনে এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করা হয়, যার সঙ্গে ঘটনাটির কোনো সম্পর্কই ছিল না। পরবর্তীতে রয়টার্স ভুল স্বীকার করে নিবন্ধ সংশোধন করে এবং ভিডিওটি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এসব ভুলের কারণে দেশে উত্তেজনা তৈরি হলেও, রয়টার্স কখনোই বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়নি।

তৃতীয়ত, প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের সময় রয়টার্স প্রথমে জানিয়েছিল যে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ মিয়ানমারে যৌথ শান্তি মিশন পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছিল। বাংলাদেশ কখনো এমন কোনো প্রস্তাব দেয়নি বা তাতে সম্মতি জানায়নি; বিষয়টি শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কুয়ালালামপুরে উত্থাপন করেছিলেন। তবুও সেই প্রতিবেদনটি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়। আমি বিশ্বাস করি না যে রয়টার্সের কুয়ালালামপুরে প্রতিনিধি বা স্ট্রিংগারের অভাব রয়েছে।

আমরা বিষয়টি রয়টার্স সম্পাদকদের নজরে আনার পর তারা কোনো ক্ষমা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই নীরবে প্রতিবেদনটি সংশোধন করেছে।

এমন ধারাবাহিক ভুল আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে যে রয়টার্স আর সাংবাদিকতার আদর্শ মানদণ্ড বহন করছে না। তাদের যেকোনো প্রতিবেদন—বিশেষত যেগুলো শুধুমাত্র ইমেল আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এবং রিয়েল-টাইম ছবি ছাড়া প্রকাশিত হয়—তা অবশ্যই সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাংবাদিকতার মানদণ্ড বহন করছে না রয়টার্স: উপ-প্রেস সচিব

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের পূর্বের সাংবাদিকতার মানদণ্ড আর বহন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। বিশেষ করে বাংলাদেশকে নিয়ে সংস্থাটির সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ভুল, পক্ষপাত এবং উদাসীনতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আজাদ মজুমদার লিখেছেন, “আমি রয়টার্সের সঙ্গে সাত বছর ধরে কাজ করেছি, তাই তাদের সম্পাদকীয় শৈলী ও পেশাগত নীতির সঙ্গে ভালোভাবেই পরিচিত। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সংস্থাটি এখন তাদের সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ মান থেকে বিচ্যুত হয়েছে—এটি একটি প্রবণতা, যা বাংলাদেশের কভারেজে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত দেড় বছরে রয়টার্স বাংলাদেশ সম্পর্কিত অন্তত তিনটি গুরুতর ভুল করেছে।

প্রথমত, তারা এক আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি ভুয়া উদ্ধৃতি প্রকাশ করে এবং ভুলভাবে নিহত ব্যক্তিকে একজন আটক প্রাক্তন ইস্কন নেতার আইনজীবী হিসেবে চিহ্নিত করে।

দ্বিতীয়ত, একই প্রতিবেদনে এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করা হয়, যার সঙ্গে ঘটনাটির কোনো সম্পর্কই ছিল না। পরবর্তীতে রয়টার্স ভুল স্বীকার করে নিবন্ধ সংশোধন করে এবং ভিডিওটি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এসব ভুলের কারণে দেশে উত্তেজনা তৈরি হলেও, রয়টার্স কখনোই বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়নি।

তৃতীয়ত, প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের সময় রয়টার্স প্রথমে জানিয়েছিল যে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ মিয়ানমারে যৌথ শান্তি মিশন পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য ছিল। বাংলাদেশ কখনো এমন কোনো প্রস্তাব দেয়নি বা তাতে সম্মতি জানায়নি; বিষয়টি শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কুয়ালালামপুরে উত্থাপন করেছিলেন। তবুও সেই প্রতিবেদনটি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়। আমি বিশ্বাস করি না যে রয়টার্সের কুয়ালালামপুরে প্রতিনিধি বা স্ট্রিংগারের অভাব রয়েছে।

আমরা বিষয়টি রয়টার্স সম্পাদকদের নজরে আনার পর তারা কোনো ক্ষমা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই নীরবে প্রতিবেদনটি সংশোধন করেছে।

এমন ধারাবাহিক ভুল আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে যে রয়টার্স আর সাংবাদিকতার আদর্শ মানদণ্ড বহন করছে না। তাদের যেকোনো প্রতিবেদন—বিশেষত যেগুলো শুধুমাত্র ইমেল আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এবং রিয়েল-টাইম ছবি ছাড়া প্রকাশিত হয়—তা অবশ্যই সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।”