আজ থেকে সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন পর্যটকরা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 67
দীর্ঘ নয় মাস পর আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। আজ (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণে যেতে পারবেন। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানতে হবে সরকারের নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা। এসব শর্ত মেনে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ ছিল। এবার সীমিত পরিসরে ভ্রমণ পুনরায় শুরু হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, “সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সুরক্ষায় ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আগে টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল করত, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে এবার কক্সবাজার শহর থেকে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনে যাবে পর্যটকবাহী জাহাজ।”
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মহিবুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট বৈধ গণ্য হবে না। টিকিট যাচাই ও জালিয়াতি রোধে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের মতো এবারও কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনে যাত্রা করবে পর্যটকবাহী জাহাজ। আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে উখিয়ার ইনানী থেকে কোনো জাহাজ চলবে না।
গত ২৭ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে পাঠানো চিঠিতে নীতিগতভাবে এ যাতায়াত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, “দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য পরিবেশ অধিদপ্তর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপে অতিরিক্ত পর্যটক চাপের কারণে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রবাল ধ্বংস রোধে গত বছর থেকে সরকার পর্যটক সীমিত করার নীতি গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি পাচ্ছেন।
প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও নির্দেশনা মানার মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।































