আজ থেকে ১০টির বেশি সিম নিষিদ্ধ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 126
আজ (১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হচ্ছে মোবাইল সিম ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা। এখন থেকে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০টি সক্রিয় সিম রাখা যাবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, আজ থেকেই মোবাইল অপারেটরগুলো অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এর আগে একজন গ্রাহক সব মিলিয়ে সর্বাধিক ১৫টি সিম ব্যবহার করতে পারতেন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখতে পারবেন, সেটা যেকোনো অপারেটরের হলেও।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে অপারেটররা অতিরিক্ত সিম বন্ধের কাজ শুরু করবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে যেন কোনো এনআইডির নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় না থাকে।”
বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সিম-ভিত্তিক প্রতারণা ও অপরাধ দমনই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। গ্রাহকরা চাইলে অনলাইনে অথবা *১৬০০২# নম্বরে ডায়াল করে তাদের এনআইডির বিপরীতে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে তা যাচাই করতে পারবেন।
সিম বন্ধের ক্ষেত্রে ‘দৈবচয়ন’ বা র্যান্ডম সিলেকশন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, “যাদের নামে ১০টির বেশি সিম রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলোর মধ্যে কোনগুলো নিষ্ক্রিয় হবে, তা স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এলোমেলোভাবে নির্ধারণ করা হবে। এতে মানবিক প্রভাব বা পক্ষপাতের কোনো সুযোগ থাকবে না।”
বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, শিগগিরই সিম ও মোবাইল ডিভাইস একত্রে ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন সিম ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে রোধ করা যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬২ লাখ। কিন্তু প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের নামে ৫টির কম সিম রয়েছে, ৬ থেকে ১০টি সিম রয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশের, আর মাত্র ৩ শতাংশ গ্রাহক ব্যবহার করছেন ১১টির বেশি সিম।
বিটিআরসি আশা করছে, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসবে।
































