১০ বছরের প্রতিরক্ষা সমঝোতার ঘোষণা ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 121
আপাতত এটিকে বলা হচ্ছে ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবে, এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা হলো। নির্দিষ্ট করে কোন ধরনের প্রকল্প বা চুক্তি করা হবে, সেটা দুই দেশ মিলে এই সমঝোতার অধীনেই পরে ঠিক করবে।
আগামী দশ বছরের জন্য দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমনই এক রূপরেখা নির্ধারণ করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ ও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকে আজ এই সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পিট হেগসেথ বলেছেন, এই সমঝোতা দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষার ব্যাপারে ‘সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা’ বৃদ্ধি করবে এবং ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধব্যবস্থা’কে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সমঝোতার ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ কমানোর ব্যাপারে দুই দেশ বাণিজ্যিক চুক্তি সই করার পথ খুঁজছে। এর আগে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানো হয়েছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে আরোপিত শাস্তিস্বরূপ।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সম্পর্কের গতিপথ ও গতি নতুন এই সমঝোতা ঠিক করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক্স-এ এক পোস্টে রাজনাথ সিং লিখেছেন, ‘এই সমঝোতা আমাদের দুই পক্ষের কৌশলগত মিল বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটার ইঙ্গিত দেয় এবং পারস্পরিক অংশীদারত্বের এক দশকের সূচনার ঘোষণা দেয়। দুই পক্ষের সম্পর্কের একটি বড় ভিত্তি হবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উন্মুক্ত, স্বাধীন ও নিয়মিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমাদের এই সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইউরাশিয়া গ্রুপ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রমিত পাল চৌধুরী বিবিসিকে বলেছেন, এই সমঝোতাটি জুলাই-আগস্টের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত সমাপ্তি টানার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে ভারতের অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় সমঝোতা সইতে বিলম্ব হয়েছে।
প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, দুটি ভিন্ন দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারায় এটি সর্বশেষ সংযোজন। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতার ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে এবং ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পারস্পরিক মৈত্রী বৃদ্ধি নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই কাজ করছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান, সেখানে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়ন বড় আলোচনার বিষয় ছিল। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ভারতের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে প্রতিপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়ার মতো যুদ্ধবিমান (স্টেলথ ওয়ারপ্লেইন) এফ-৩৫ বিক্রির পথ তৈরি হয়।
তবে এরপর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের কম মূল্যে তেল কেনা এবং মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সম্পর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও ভারতে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়াই সবার চেয়ে এগিয়ে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেনা-বেচার পরিমাণ কমেছে। কারণ ভারত অস্ত্র আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। ভারত সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পরিমাণ বাড়াতে আগ্রহী।
ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ কমানোর লক্ষ্যে দুই দেশ বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। লক্ষ্য, নভেম্বরের মধ্যে ট্যারিফের পরিমাণ কমানোর চুক্তিতে পৌঁছানো।





































