বিএনপির লক্ষ্য: আধুনিক ও গণমুখী বাংলাদেশ গড়া
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
- / 91
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দলের লক্ষ্য একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ গড়া—যেখানে কোনো নারীকে পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়। তিনি বলেন, কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে কখনোই অবমূল্যায়ন করা যাবে না।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করেন, তখন দেশের সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বাংলাদেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম: পুরুষদের ৮০ শতাংশের বিপরীতে নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ। এই ব্যবধান জাতির অর্ধেকেরও বেশি মেধা ও দক্ষতার যথাযথ ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তারেক রহমান বলেন, এই কারণেই বিএনপি সারাদেশে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যাতে শিশু পরিচর্যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হয়ে ওঠে।
বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে:
সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন;
সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টারের জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ;
বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা;
শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখলে নিয়োগকর্তাদের কর সুবিধা ও সিএসআর (CSR) ক্রেডিট প্রদান;
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন।
তিনি বলেন, এই সংস্কার নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে পারে, মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দিতে পারে এবং জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী। কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (IFC) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর গবেষণায় দেখা গেছে—যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম, এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যে খরচ তুলতে সক্ষম।
তিনি উল্লেখ করেন, শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর অপরিহার্য অংশ। ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়া, যা লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, দেশের প্রবৃদ্ধিতে গর্বের সঙ্গে অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সমান মজুরি, শিশু পরিচর্যা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়সংগত নয়, এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি।
পোস্টের শেষে তারেক রহমান আহ্বান জানান, আসুন আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ি—যেখানে প্রতিটি কর্মজীবী মা ও ছাত্রী স্বাধীনভাবে নিজের সাফল্য অর্জন করবে এবং সমাজের যত্ন ও সহযোগিতাকে অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।































