জামায়াত-এনসিপির প্রভাব দেখছে বিএনপি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
- / 91
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিএনপি মনে করছে, এই সুপারিশে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতামতেরই প্রতিফলন ঘটেছে। দলের অভিযোগ, সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি। এ ঘটনায় বিএনপি বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও জানাবে দলটি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা মঙ্গলবার দুপুরে সরকারকে জমা দেওয়ার পর রাতেই বিএনপি জরুরি বৈঠক ডাকে। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বৈঠক চলে, পরে তা মুলতবি করা হয়। বুধবার রাতে পুনরায় বৈঠক হয়।
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন সংসদ প্রথম ২৭০ দিন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে এবং গণভোটে পাশ হওয়া প্রস্তাবগুলো এই সময়ের মধ্যে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।
বিএনপি এই ধারাটিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) ও আইয়ুব খানের ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে। তাদের মতে, কমিশনের এই সুপারিশ জনগণের মতামতকে পাশ কাটিয়ে কয়েকটি দলের চিন্তাভাবনাকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ঐকমত্য কমিশন ও সরকার এখন একই ধারায় কাজ করছে এবং এটি ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে। তাদের মতে, এতে ঐক্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক অনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু কমিশনের সুপারিশ তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মনে হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করাই উদ্দেশ্য।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রেফারি সাধারণত গোল দেয় না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কমিশন, সরকার এবং আরও কয়েকটি দল একই দলে খেলছে।”
আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিএনপি ছিল জুলাই সনদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবগুলোর কিছুই রাখা হয়নি, বরং যেগুলোর বিরোধিতা করেছি, সেগুলোই যুক্ত করা হয়েছে। এখন ঐকমত্য কমিশন কার্যত অনৈক্য কমিশনে পরিণত হয়েছে।”
































