ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি গণঅধিকার পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 71

গণঅধিকার পরিষদ

গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তাঁর নেতৃত্বে দলের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয় এবং নয় দফা দাবি উপস্থাপন করে।

বৈঠক শেষে নুরুল হক নুর বলেন, “আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলীয় জোটের মতো অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছি।”

নুর সংশোধিত আরপিওতে ‘জোটগত নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা’ সংক্রান্ত বিধানকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

দলটির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, “আমরা ইসিকে বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কেউ যেন ভোটে অংশ নিতে না পারেন—এ বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন।”

গণঅধিকার পরিষদের নয় দফা দাবি:

১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
২. কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে এমন কাউকে রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার বা নির্বাচনী দায়িত্বে না রাখা।
৩. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্রের বাইরে জায়ান্ট স্ক্রিনে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।
৪. ব্যালটবাক্স পরিবহনের সময় প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৫. সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র দখল বা কালো ভোটের অভিযোগ উঠলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা।
৬. কোনো প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়ভীতি বা বাধার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে না রাখা।
৮. অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা।

দলটি বলেছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জনগণের আস্থা অর্জনকারী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি গণঅধিকার পরিষদের

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তাঁর নেতৃত্বে দলের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয় এবং নয় দফা দাবি উপস্থাপন করে।

বৈঠক শেষে নুরুল হক নুর বলেন, “আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলীয় জোটের মতো অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছি।”

নুর সংশোধিত আরপিওতে ‘জোটগত নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা’ সংক্রান্ত বিধানকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

দলটির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, “আমরা ইসিকে বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কেউ যেন ভোটে অংশ নিতে না পারেন—এ বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন।”

গণঅধিকার পরিষদের নয় দফা দাবি:

১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
২. কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে এমন কাউকে রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার বা নির্বাচনী দায়িত্বে না রাখা।
৩. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্রের বাইরে জায়ান্ট স্ক্রিনে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।
৪. ব্যালটবাক্স পরিবহনের সময় প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৫. সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র দখল বা কালো ভোটের অভিযোগ উঠলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা।
৬. কোনো প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়ভীতি বা বাধার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে না রাখা।
৮. অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা।

দলটি বলেছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জনগণের আস্থা অর্জনকারী।