ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাফা বহুমুখী সমবায় সমিতি: সমবায়ের নামে প্রতারণা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 729

জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে সাফা গ্রীণ সিটি।

রাজধানীতে নিজেদের স্কুল, সুপারশপ ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মতো সেবামূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল “সাফা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড”। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কেবলই প্রতারণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সরকারের অনুমতি ছাড়াই সমবায়ের নাম ভাঙিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন সরাসরি জমির ব্যবসায় নেমে পড়েছে- যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন সমবায় অধিদপ্তর।

 

সমবায়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন এই শ্লোগান নিয়ে ২০০৯ সালে ২৫জন মিলে সমিতির নিবন্ধন নেয়। বর্তমানে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের আটি এলাকায় “সাফা গ্রীণ সিটি” নামে একটি আবাসন প্রকল্পের প্রচারণা চালাচ্ছে সমিতিটি। তাদের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, এটি একটি “সদস্যভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প” যেখানে সাধারণ মানুষ অল্প কিস্তিতে প্লট পাবেন।

 

প্রথম দিকে প্রকল্পটি সাফা বহুমুখী সমিতি লিমিটেডের নামে আটি এলাকায় টুকরো টুকরো জমি কেনা শুরু করে। সমিতির ১২০ জন সদস্যের জন্য ৮ শতাংশ করে জমি কেনার কথা। কিন্তু এরই মাঝে নগদ কড় কড়া টাকার গন্ধ খুঁজে পায় সমিতির ২৪ জন প্রভাবশালী সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। তারা পুরো হাউজিং কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

 

এবার তারা সমিতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আশেপাশের ছাগলাকান্দি, বড় মনহরিয়া, কাশারিয়া মৌজা থেকে খাস জমি দখল, কৃষি জমি ও জলাশয় কম দামে কেনা শুরু করেন। সামনে রাখা হয় সমবায়ীদের।

 

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ- প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সামাজিক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। পরে সেই অর্থ ব্যবহার করে আবাসন ব্যবসায় নেমে পড়ে।

 

গ্রাহকদের বিশ্বাস জোগাতে এক পর্যায়ে ‘সাফা’ নামটি ব্যবহার করে ১৯৮ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৪ জন মিলে সাফা গ্রীণ সিটি লিমিটেড নামে আরেকটি জয়েন স্টক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করেন। এই ২৪ জন মিলে একই প্রকল্পের উন্নয়নে বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড নামে আরেকটি ‘বায়োবীয়’ কোম্পানি গঠণ করেন। এ বিষয়ে বাকি সদস্যদের কাছ থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সাফা গ্রীণ সিটি ছাড়া এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটিরও দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম বা প্রকল্প চালু নেই।

 

বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড এর পরিচালক (বিপনন) ও একই সঙ্গে সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, সমিতির সদস্যদের জমির বালু ভরাট, রাস্তা তৈরি, বিদ্যুৎ, পানির লাইন তৈরিসহ উন্নয়নের জন্য বায়োকন লিমিটেড গঠণ করা হয়েছে। কেন আলাদা কোম্পানি গঠণ করতে হলো- এমন প্রশ্নের উত্তর গোজামিলে ভরা।

 

সমিতির সভাপতি আবু বাসেদ আকন্দ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ইতোমধ্যে তারা সমবায়ের ১২০ জন সদস্যকে ৮ শতাংশ করে জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সমিতির সবশেষ অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৭৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন তারা সমিতির নামে। প্রত্যেকের ৮ শতাংশ করে জমি হওয়ার কথা ৯৬০ শতাংশ।

 

অথচ সাফা গ্রীণ সিটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ৬০ একর জমি ক্রয় করেছেন। যেগুলোর অধিকাংশ ছিলো জলাশয় ও কৃষি জমি। এছাড়াও বিপুল পরিমান খাস জমি দখল করে।

 

বর্তমানে তারা ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৯ কাঠার রেডি প্লট, সেমি রেডি প্লট ও আপ-কামিং প্লট বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্লট বিক্রিও করে ফেলেছে। আরো নতুন নতুন এলাকা ভরাট করছে।

 

সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রকল্পের জমিতে দাড়ানো। সেখানে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে এটি ছিলো জলাশয়। ছবি: সংগৃহীত
সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রকল্পের জমিতে দাড়ানো। সেখানে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে এটি ছিলো জলাশয়। ছবি: সংগৃহীত

বলা হচ্ছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রাজউক ও সরকারি উন্নয়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরিকল্পিত একটি আবাসন প্রকল্প। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজউকের কোন অনুমতি নেই প্রকল্পটির। একটি মাত্র আবেদন করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে প্রকল্পটির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড এর পরিচালক (বিপনন) জাহাঙ্গীর আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি; এরপরেও যদি তারা অনুমতি না দেয় আমরা কি তাদের সাথে মারামারি করবো।’

 

সমবায় অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিবন্ধন শর্ত অনুযায়ি সাফা বহুমুখী সমিতির রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, আদাবর ও হাজারীবাগ এলাকায় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু তারা প্রশাসনিক সীমানা অতিক্রম করে কেরানীগঞ্জে জমি ব্যবসা শুরু করেছে। এটা সুস্পষ্টভাবের আইনের লঙ্ঘন।

 

সমবায় অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত সমিতি বাণিজ্যিক বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িত হতে পারে না। সাফা সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, প্রমাণ পেলে তাদের নিবন্ধন বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সদস্যদের অভিযোগ, তাদের বিনিয়োগের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। তারা বলছেন, তারা এখন বায়োকনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছ থেকে জমি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ,  সুয়ারেজ, টেলিফোন, অপটিক্যাল ফাইবাবসহ বিভিন্ন ধাপে ধাপে টাকা নিচ্ছেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তাদের জমি বরাদ্দ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, সমবায়ের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও অনিয়মে ভরা। সদস্যদের অধিকাংশ লেনদেন তারা বায়োকন বাংলাদেশ ও সাফা গ্রীণ সিটি লিমিটেডের ব্যাংক একাউন্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রকল্পটির আড়ালে চলছে জমি দখল, এক প্লট একাধিক ক্রেতার কাছে বিক্রি, নারী কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো ভয়ঙ্কর কার্যক্রম।

 

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিকের এই প্রকল্পে বিনিয়োগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেরানীগঞ্জের আলোচিত ও বিতর্কিত শাহীন চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ মদদে প্রকল্পটির দখল কার্যক্রম চালানো হয়। যা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্পটির বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিপনন) জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ি কামাল হোসেন এলাকাবাসীর কাছে “রহস্য মানব” হিসেবে পরিচিত। এ সম্পর্কে রয়েছে- দ্বিতীয় পর্বে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাফা বহুমুখী সমবায় সমিতি: সমবায়ের নামে প্রতারণা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীতে নিজেদের স্কুল, সুপারশপ ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মতো সেবামূলক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল “সাফা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড”। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কেবলই প্রতারণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সরকারের অনুমতি ছাড়াই সমবায়ের নাম ভাঙিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন সরাসরি জমির ব্যবসায় নেমে পড়েছে- যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ বলছেন সমবায় অধিদপ্তর।

 

সমবায়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন এই শ্লোগান নিয়ে ২০০৯ সালে ২৫জন মিলে সমিতির নিবন্ধন নেয়। বর্তমানে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের আটি এলাকায় “সাফা গ্রীণ সিটি” নামে একটি আবাসন প্রকল্পের প্রচারণা চালাচ্ছে সমিতিটি। তাদের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, এটি একটি “সদস্যভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প” যেখানে সাধারণ মানুষ অল্প কিস্তিতে প্লট পাবেন।

 

প্রথম দিকে প্রকল্পটি সাফা বহুমুখী সমিতি লিমিটেডের নামে আটি এলাকায় টুকরো টুকরো জমি কেনা শুরু করে। সমিতির ১২০ জন সদস্যের জন্য ৮ শতাংশ করে জমি কেনার কথা। কিন্তু এরই মাঝে নগদ কড় কড়া টাকার গন্ধ খুঁজে পায় সমিতির ২৪ জন প্রভাবশালী সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। তারা পুরো হাউজিং কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

 

এবার তারা সমিতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আশেপাশের ছাগলাকান্দি, বড় মনহরিয়া, কাশারিয়া মৌজা থেকে খাস জমি দখল, কৃষি জমি ও জলাশয় কম দামে কেনা শুরু করেন। সামনে রাখা হয় সমবায়ীদের।

 

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ- প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সামাজিক প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। পরে সেই অর্থ ব্যবহার করে আবাসন ব্যবসায় নেমে পড়ে।

 

গ্রাহকদের বিশ্বাস জোগাতে এক পর্যায়ে ‘সাফা’ নামটি ব্যবহার করে ১৯৮ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৪ জন মিলে সাফা গ্রীণ সিটি লিমিটেড নামে আরেকটি জয়েন স্টক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করেন। এই ২৪ জন মিলে একই প্রকল্পের উন্নয়নে বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড নামে আরেকটি ‘বায়োবীয়’ কোম্পানি গঠণ করেন। এ বিষয়ে বাকি সদস্যদের কাছ থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সাফা গ্রীণ সিটি ছাড়া এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটিরও দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম বা প্রকল্প চালু নেই।

 

বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড এর পরিচালক (বিপনন) ও একই সঙ্গে সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, সমিতির সদস্যদের জমির বালু ভরাট, রাস্তা তৈরি, বিদ্যুৎ, পানির লাইন তৈরিসহ উন্নয়নের জন্য বায়োকন লিমিটেড গঠণ করা হয়েছে। কেন আলাদা কোম্পানি গঠণ করতে হলো- এমন প্রশ্নের উত্তর গোজামিলে ভরা।

 

সমিতির সভাপতি আবু বাসেদ আকন্দ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ইতোমধ্যে তারা সমবায়ের ১২০ জন সদস্যকে ৮ শতাংশ করে জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সমিতির সবশেষ অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৭৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন তারা সমিতির নামে। প্রত্যেকের ৮ শতাংশ করে জমি হওয়ার কথা ৯৬০ শতাংশ।

 

অথচ সাফা গ্রীণ সিটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ৬০ একর জমি ক্রয় করেছেন। যেগুলোর অধিকাংশ ছিলো জলাশয় ও কৃষি জমি। এছাড়াও বিপুল পরিমান খাস জমি দখল করে।

 

বর্তমানে তারা ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৯ কাঠার রেডি প্লট, সেমি রেডি প্লট ও আপ-কামিং প্লট বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্লট বিক্রিও করে ফেলেছে। আরো নতুন নতুন এলাকা ভরাট করছে।

 

সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রকল্পের জমিতে দাড়ানো। সেখানে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে এটি ছিলো জলাশয়। ছবি: সংগৃহীত
সাফা বহুমুখী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রকল্পের জমিতে দাড়ানো। সেখানে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে এটি ছিলো জলাশয়। ছবি: সংগৃহীত

বলা হচ্ছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রাজউক ও সরকারি উন্নয়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরিকল্পিত একটি আবাসন প্রকল্প। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজউকের কোন অনুমতি নেই প্রকল্পটির। একটি মাত্র আবেদন করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে প্রকল্পটির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে বায়োকন বাংলাদেশ লিমিটেড এর পরিচালক (বিপনন) জাহাঙ্গীর আলম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি; এরপরেও যদি তারা অনুমতি না দেয় আমরা কি তাদের সাথে মারামারি করবো।’

 

সমবায় অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিবন্ধন শর্ত অনুযায়ি সাফা বহুমুখী সমিতির রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, আদাবর ও হাজারীবাগ এলাকায় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু তারা প্রশাসনিক সীমানা অতিক্রম করে কেরানীগঞ্জে জমি ব্যবসা শুরু করেছে। এটা সুস্পষ্টভাবের আইনের লঙ্ঘন।

 

সমবায় অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত সমিতি বাণিজ্যিক বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িত হতে পারে না। সাফা সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, প্রমাণ পেলে তাদের নিবন্ধন বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সদস্যদের অভিযোগ, তাদের বিনিয়োগের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। তারা বলছেন, তারা এখন বায়োকনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছ থেকে জমি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ,  সুয়ারেজ, টেলিফোন, অপটিক্যাল ফাইবাবসহ বিভিন্ন ধাপে ধাপে টাকা নিচ্ছেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তাদের জমি বরাদ্দ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, সমবায়ের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও অনিয়মে ভরা। সদস্যদের অধিকাংশ লেনদেন তারা বায়োকন বাংলাদেশ ও সাফা গ্রীণ সিটি লিমিটেডের ব্যাংক একাউন্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রকল্পটির আড়ালে চলছে জমি দখল, এক প্লট একাধিক ক্রেতার কাছে বিক্রি, নারী কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো ভয়ঙ্কর কার্যক্রম।

 

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিকের এই প্রকল্পে বিনিয়োগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেরানীগঞ্জের আলোচিত ও বিতর্কিত শাহীন চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ মদদে প্রকল্পটির দখল কার্যক্রম চালানো হয়। যা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্পটির বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিপনন) জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ি কামাল হোসেন এলাকাবাসীর কাছে “রহস্য মানব” হিসেবে পরিচিত। এ সম্পর্কে রয়েছে- দ্বিতীয় পর্বে।