যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 104
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় শহরে—নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মিয়ামি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
শনিবার সকালেই নিউ ইয়র্ক সিটির বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের ভিড় জমতে শুরু করে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়।
প্রদর্শনকারীরা রাস্তায় ও সাবওয়ের প্রবেশপথগুলোতে “রাজতন্ত্র নয়, চাই গণতন্ত্র” ও “সংবিধান বাতিল নয়” লেখা ব্যানার হাতে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এই সমাবেশকে “আমেরিকাবিরোধী” বলে অভিহিত করে দাবি করে, এর আয়োজকরা বামপন্থী অ্যান্টিফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
“নো কিংস” নামের একটি সংগঠন তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা সহিংসতা বর্জনের নীতিতে বিশ্বাসী এবং অংশগ্রহণকারীদের সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীরা বারবার “এটাই গণতন্ত্রের রূপ” শ্লোগানে মুখর হয়, সঙ্গে ছিল ঢোলের গর্জন।
আকাশে ড্রোন ও হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছিল, আর পুলিশ সদস্যরা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরের পাঁচটি বরোতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রায় ১ লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি।
টাইমস স্কয়ারের পাশে এক পুলিশ সদস্য জানান, সেখানে অন্তত ২০ হাজার মানুষ সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে মিছিল করছিলেন।
ফ্রিল্যান্স লেখিকা ও সম্পাদক বেথ জাসলফ বলেন, তিনি এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কারণ তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে “একটি স্বৈরশাসন ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার” দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
“নিউ ইয়র্ক সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তিত,” বলেন তিনি।
“তবে এত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমি আশাবাদী বোধ করছি।”
তিনি হাতে একটি পোস্টার ধরে ছিলেন, যেখানে লেখা ছিল: “কোনো রাজা নেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে, নেই ঘৃণা কিংবা ভয়; অভিবাসীদের জন্য এখানে উন্মুক্ত দরজা।”
অবসরপ্রাপ্ত ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার ও নিউ জার্সির বাসিন্দা ম্যাসিমো মাসকোলি, যিনি ইতালিতে বড় হয়েছেন, জানান তিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, আমেরিকা ইতিহাসের ভুল পথে এগোচ্ছে।
“আমি এমন এক বীরের ভাগ্নে, যিনি মুসোলিনির বাহিনী ত্যাগ করে প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দেন,” বলেন তিনি।
“ফ্যাসিস্টরা তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করেছিল। ৮০ বছর পর আমেরিকায় আবার সেই ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখে আমি হতবাক।”
মাসকোলি বলেন, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা হ্রাস তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।
“আমরা এখন আর সুপ্রিম কোর্ট, কংগ্রেস বা প্রশাসনের উপর ভরসা করতে পারি না,” বলেন তিনি। “তাই আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে।”
নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারও বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে লেখেন:
“আমেরিকায় কোনো স্বৈরাচার চলবে না। আমরা ট্রাম্পকে আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে দেব না।”
তার সঙ্গে ছিল একটি ছবি, যেখানে তিনি ‘স্বাস্থ্যসেবা সংকট সমাধান করুন’ লেখা পোস্টার ধরে আছেন।
অন্য শহরগুলোতেও অভিনব প্রতিবাদের চিত্র দেখা গেছে—কোনো কোনো জায়গায় মানুষ ব্যাঙের পোশাক পরে “প্রতিরোধ, পুনরাবৃত্তি” বার্তা তুলে ধরে মিছিল করেছে।
উত্তর ক্যারোলিনার কর্নেলিয়াস শহরে বিক্ষোভকারীরা গাড়িচালকদের হর্ন বাজিয়ে সমর্থন জানাতে উৎসাহিত করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা এখানে এসেছি কারণ আমরা আমেরিকাকে ভালোবাসি—ঘৃণার কারণে নয়।”
সূত্র: বিবিসি
































