ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কার্গো ভিলেজে আগুন: বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি বলছেন ব্যবসায়ীরা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 135

কার্গো ভিলেজে আগুন: বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি বলছেন ব্যবসায়ীরা

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে শত শত টন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন কার্গো ভিলেজ এলাকায়, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এতে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কবির আহমেদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৩ পয়সা ধরে)।

তিনি জানান, “কার্গো এক্সপ্রেস, ওয়্যারহাউজ, বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীসহ পুরো বাণিজ্য খাত বড় ধাক্কা খাবে।”

কার্গো ভিলেজে মূলত আমদানি ও রপ্তানির পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। এখান থেকে শুল্কায়ন শেষে পণ্য খালাস করা হয় বা বিদেশে পাঠানো হয়। সাধারণত শাকসবজি, ফলমূল ও তৈরি পোশাকের মতো পণ্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে ছাড় করা হয়। তবে রপ্তানি স্পেস সংকট বা শুল্ক বিলম্বে কিছু চালান কয়েক দিন পর্যন্ত জমে থাকে।

আকাশপথে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান আরএমকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন, “অগণিত আমদানিকারকের পণ্য পুড়ে গেছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই বোঝা যাবে কার কার ক্ষতি হয়েছে। বিমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শুল্ক বিভাগ, বিমান সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় রয়েছে। আগুনে শুধু পণ্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর আগে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতে ‘লিড টাইম’ বা সরবরাহের সময়সীমা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কার্গো ভিলেজে আগুন: বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি বলছেন ব্যবসায়ীরা

সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে শত শত টন আমদানি ও রপ্তানি পণ্য। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন কার্গো ভিলেজ এলাকায়, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এতে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কবির আহমেদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার ২১৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৩ পয়সা ধরে)।

তিনি জানান, “কার্গো এক্সপ্রেস, ওয়্যারহাউজ, বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীসহ পুরো বাণিজ্য খাত বড় ধাক্কা খাবে।”

কার্গো ভিলেজে মূলত আমদানি ও রপ্তানির পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। এখান থেকে শুল্কায়ন শেষে পণ্য খালাস করা হয় বা বিদেশে পাঠানো হয়। সাধারণত শাকসবজি, ফলমূল ও তৈরি পোশাকের মতো পণ্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে ছাড় করা হয়। তবে রপ্তানি স্পেস সংকট বা শুল্ক বিলম্বে কিছু চালান কয়েক দিন পর্যন্ত জমে থাকে।

আকাশপথে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান আরএমকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন, “অগণিত আমদানিকারকের পণ্য পুড়ে গেছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই বোঝা যাবে কার কার ক্ষতি হয়েছে। বিমা দাবির প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দেশের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শুল্ক বিভাগ, বিমান সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় রয়েছে। আগুনে শুধু পণ্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর আগে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ডে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতে ‘লিড টাইম’ বা সরবরাহের সময়সীমা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।