এবার বোরখা নিষিদ্ধ করলো পর্তুগাল
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 126
ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পরে এবার পর্তুগালের সংসদে জনসমক্ষে মুখ আবৃত এমন পোশাক, বিশেষত বোরখা পরিধান নিষিদ্ধ করার একটি আইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে দেশটি ইউরোপের অন্যান্য কয়েকটি দেশের মতো ‘মুখমণ্ডল ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ’ করেছে। নিষিদ্ধ বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে এমন পোশাক পরা যা পুরোপুরি মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে।
অর্থ-ডানপন্থী সরকার প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করেছে, জনাকীর্ণ স্থানে এমন কোনো পোশাক পরা যাবে না যা মুখমণ্ডল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখে এবং মানুষের পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা সৃষ্টি করে। সরকার জানিয়েছে, মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের পরিচয় শনাক্তকরণ সহজ করার জন্য আইনটি পাস করা হয়েছে।
তবে, আইনটিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে — যেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী বা চিকিৎসাজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ থাকলে অবশ্যই তা মানতে হবে।
আইন অমান্য করলে রাখা হয়েছে জরিমানা বিধানের ব্যবস্থা। আইন অনুযায়ী এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২০০ ইউরো থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সংসদে আইনটি অনুমোদনের পর এখন এটিকে সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বামপন্থী সরকারের পক্ষ থেকে আইনটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সরকারি দল এই আইনকে “নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছে, তবে বিরোধীরা একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে কঠোর সমালোচনা করেছে।
বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বোরখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়া। এবার নতুন করে যুক্ত হলো আটলান্টিক পার্শ্ববর্তী দেশ পর্তুগাল।
































