ট্রাম্পের বেদনার জায়গা খুঁজে পেয়েছে চীন
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 104
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে একটি নথি প্রকাশ করেছে। এর নাম ছিল ‘ঘোষণা নম্বর ৬২, সাল ২০২৫’। এই নথিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির ভঙ্গুর শুল্কবিরতি চুক্তি নাড়িয়ে দিয়েছে।
বেইজিংয়ের নথির তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করবে চীন। অর্থাৎ, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য অপরিহার্য খনিজের ওপর দেশটি আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। বিবিসি বলছে, এর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীন একটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছে—বাণিজ্য যুদ্ধে তাদেরও চাপের হাতিয়ার আছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিরল খনিজ উপাদানযুক্ত কোনও পণ্য রপ্তানি করতে হলে চীনা সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি সেই পণ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যও জানাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথাও বলেছেন।
বিরল খনিজ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, “তারা (চীন) সমগ্র বিশ্বের উন্মুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে রকেট লঞ্চার তাকিয়েছে। আমরা এটি মেনে নেব না।” জবাবে চীন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বিরল খনিজ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুল বুঝেছে এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই আলোচনায় চীন এগিয়ে থাকবে, কারণ বিরল খনিজের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের প্রভাষক নাওইসে ম্যাকডোনাহ বলছেন, চীনের নতুন বিধিনিষেধ পুরো ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেবে, কারণ এটি মার্কিন সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
বিরল খনিজ কী
সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, বিরল খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস’ হলো ১৭টি রাসায়নিক মৌলের একটি গ্রুপ। এর মধ্যে আছে ল্যান্থানাইড, স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম। এগুলো পৃথিবীতে থাকলেও উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ জটিল এবং ব্যয়বহুল।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের প্রযুক্তি পণ্যে এটি ব্যবহার হয়। যেমন—সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন বা সামরিক সরঞ্জাম। কেবল একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম বিরল খনিজের প্রয়োজন হয়।
নিউল্যান্ড গ্লোবাল গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নাতাশা ঝা ভাস্কর জানিয়েছেন, বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটরের চুম্বক তৈরিতে যে পরিমাণ ধাতুর প্রয়োজন হয়, তার ৭০ শতাংশ আসে চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি থেকে।
চীনের হাতিয়ার
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফিয়া কালান্টজাকোসের মতে, চীনের ১৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে বিরল খনিজের অবদান খুব সামান্য। অনুমান করা হয়, এটি বার্ষিক দেশজ উৎপাদনের ০.১ শতাংশেরও কম। তবে আর্থিক মূল্য সামান্য হলেও কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে এটি চীনকে প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেয়।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী চীনকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করলেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। স্কট বেসেন্ট বলেছেন, “আমার বিশ্বাস চীন আলোচনা করবে। আশা করি উত্তেজনা প্রশমিত হবে।”




































