ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ও সংস্কারে সহায়তা চায় বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 112

পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ও সংস্কারে সহায়তা চায় বাংলাদেশ

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার সাইডলাইনে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পাচার করা অর্থ ফেরত আনা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছে। পাশাপাশি, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তহবিল বরাদ্দ বৃদ্ধি করার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্তে আর কোনো বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হবে না। কারণ, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করে বর্তমানে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে।

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠক শনিবার শেষ হবে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, যিনি পুরো বৈঠকটি নেতৃত্ব দেন। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মার্কিন সময় মঙ্গলবার দুপুরে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে চলমান ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জলবায়ু ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানায়, তবে শর্ত শিথিল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আইএমএফ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ঋণ গ্রহণে সুদের হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং জ্বালানি উপকরণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে। এসব বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আইএমএফের মিশন আসবে, যারা ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।

একই দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এসব সংস্থার সহায়তায় পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ফেরত আনার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন।

জুলাই থেকে বিশ্বব্যাংক সহজ শর্তের নতুন ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে, যার সুদের হার প্রচলিত ঋণের তুলনায় কম। এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ঋণ সহযোগিতা চেয়েছে।

ওপেক ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির জন্য ক্রেডিট লাইন বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে ঋণের চাহিদাও বেড়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে সমর্থন চাওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ও সংস্কারে সহায়তা চায় বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার সাইডলাইনে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পাচার করা অর্থ ফেরত আনা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছে। পাশাপাশি, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তহবিল বরাদ্দ বৃদ্ধি করার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্তে আর কোনো বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হবে না। কারণ, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করে বর্তমানে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে।

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠক শনিবার শেষ হবে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, যিনি পুরো বৈঠকটি নেতৃত্ব দেন। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মার্কিন সময় মঙ্গলবার দুপুরে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে চলমান ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জলবায়ু ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানায়, তবে শর্ত শিথিল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আইএমএফ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ঋণ গ্রহণে সুদের হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং জ্বালানি উপকরণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে। এসব বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আইএমএফের মিশন আসবে, যারা ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।

একই দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এসব সংস্থার সহায়তায় পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ফেরত আনার জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন।

জুলাই থেকে বিশ্বব্যাংক সহজ শর্তের নতুন ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে, যার সুদের হার প্রচলিত ঋণের তুলনায় কম। এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ঋণ সহযোগিতা চেয়েছে।

ওপেক ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির জন্য ক্রেডিট লাইন বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে ঋণের চাহিদাও বেড়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানো এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে সমর্থন চাওয়া হয়।