ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ, কাছে টানছে পর্যটক

মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 247

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ। ছবি: প্রতিনিধি

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নীল সমুদ্র, সাদা বালির সৈকত, নারিকেল গাছের সারি আর প্রবালপাথরের ঝলক সব মিলিয়ে এই ছোট্ট দ্বীপ যেন এক টুকরো স্বর্গ। দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত দ্বীপটি প্রকৃতির রূপ লাবণ্যে ভরপুর, যা প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে টেনে নেয়।

সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখানকার স্বচ্ছ নীল জলরাশি। সূর্যের আলো পড়লে পানির নিচে দেখা যায় বিচিত্র রঙের মাছ, প্রবাল ও শৈবাল। দ্বীপজুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছের ছায়ায় ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেন মুগ্ধ করে প্রতিটি পর্যটককে। এজন্য অনেকেই একে ভালোবেসে ডাকেন ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামে।

সেন্টমার্টিনের প্রবাল, নীল সমুদ্র, কেয়াগাছ, সাদা বালুকাবেলা, পাথর, সহ নানান সৌন্দর্যের মধ্যে পযর্টকদের আরও বেশি আকর্ষণ জোগায় নারিকেল জিনজিরা, সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে পযর্টন মৌসুম শুরু হলে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পযর্টকরা প্রবাল দ্বীপে ঘুরতে আসেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বরাবরই সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো অন্যতম আকর্ষণ জোগায়।এবং দ্বীপের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নারিকেল গাছ যেন প্রকৃতির সাজানো এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ
সেন্টমার্টিনে নারিকেল গাছ ও সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য। ছবি: প্রতিনিধি

সূর্যের আলো যখন পানির উপর পড়ে আর বাতাসে দুলে ওঠে নারিকেল পাতাগুলো। প্রকৃতির এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ছুটে যান সেন্টমার্টিনে।প্রবাল ও সমুদ্রের নীলাভ সৌন্দর্যের সঙ্গে নারিকেল জিনজিরার সবুজ আবহ মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নারিকেল জিনজিরা, নারিকেল গাছ।

আরও জানা গেছে, তবে কক্সবাজার সহ অন্যান্য পযর্টন স্থানে পযর্টকদের আনা-ঘনা ভরপুর হতে শুরু করলেও এ বছর এখনো সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাওয়া শুরু করেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আগামী নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পযর্টকরা যেতে পারবেন।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ জানান, দ্বীপের চারপাশে সারি সারি দাড়িয়ে থাকা নারিকেল গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং দ্বীপবাসীর জীবিকারও উৎস হয়ে উঠেছে। এই দ্বীপের ডাব পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়।প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সেন্টমার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, বরং সমুদ্র ও সবুজের এক চিরন্তন রোমাঞ্চ ভরা মিলনস্থল।

তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিনে স্থানীয় যেসব ব্যক্তিরা জমি বিক্রি করেছে সেগুলো সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের ও পোকামাকড়ের কারনে নারিকেল গাছ সংখ্যা কমলেও এখন নতুন করে অনেকেই খালি জায়গায় নারিকেল লাগিয়েছেন। আগে শুধু গ্রামের মধ্যে গাছ ছিল, ধানের জমি, বালিয়াড়ি, জলাশয় ইত্যাদিতে গাছ ছিল না। এখন সব জায়গায় নারিকেল গাছ রোপন করা হয়।

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ
সারি সারি সবুজ নারিকেল গাছ। ছবি: প্রতিনিধি

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম জানান, ‌সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিনজিরা, এই নারিকেল জিনজিরাতে এক সময় নারিকেল ডাবে ভরপুর ছিলো, দেশ-বিদেশি পযর্টকদের কাছে এই ডাবের চাহিদা বেশি।দ্বীপের চাহিদা পূরণ করে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেও নিয়ে বিক্রি করা হতো।

পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ডাবের চাহিদা পর্যটকদের কাছে বৃদ্ধি পেলেও কয়েক বছর ধরে সেন্টমার্টিনের নারিকেল গাছে সাদা মাছির আক্রমণে অনেক গাছ মারা গেছে। এখন বেশির ভাগ নারিকেল গাছে ফল শূন্য।

তিনি আরও জানান, এ বছর এখনো তো কোন পযর্টক দ্বীপে ভ্রমণে আসেনি। তবে বিগত সময় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে দ্বীপের নারিকেল গাছের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ জোগায়তেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন জানান, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। আমরা চাই এই সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করা। স্থানীয় জনগণের জীবিকা যেন টেকসই হয় এবং দ্বীপের পরিবেশ যেন রক্ষা পায়। নারিকেল গাছ গুলো থেকে পোকামাকড় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ, কাছে টানছে পর্যটক

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নীল সমুদ্র, সাদা বালির সৈকত, নারিকেল গাছের সারি আর প্রবালপাথরের ঝলক সব মিলিয়ে এই ছোট্ট দ্বীপ যেন এক টুকরো স্বর্গ। দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত দ্বীপটি প্রকৃতির রূপ লাবণ্যে ভরপুর, যা প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে টেনে নেয়।

সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখানকার স্বচ্ছ নীল জলরাশি। সূর্যের আলো পড়লে পানির নিচে দেখা যায় বিচিত্র রঙের মাছ, প্রবাল ও শৈবাল। দ্বীপজুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছের ছায়ায় ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেন মুগ্ধ করে প্রতিটি পর্যটককে। এজন্য অনেকেই একে ভালোবেসে ডাকেন ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামে।

সেন্টমার্টিনের প্রবাল, নীল সমুদ্র, কেয়াগাছ, সাদা বালুকাবেলা, পাথর, সহ নানান সৌন্দর্যের মধ্যে পযর্টকদের আরও বেশি আকর্ষণ জোগায় নারিকেল জিনজিরা, সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে পযর্টন মৌসুম শুরু হলে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পযর্টকরা প্রবাল দ্বীপে ঘুরতে আসেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বরাবরই সারি সারি নারিকেল গাছ গুলো অন্যতম আকর্ষণ জোগায়।এবং দ্বীপের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নারিকেল গাছ যেন প্রকৃতির সাজানো এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ
সেন্টমার্টিনে নারিকেল গাছ ও সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য। ছবি: প্রতিনিধি

সূর্যের আলো যখন পানির উপর পড়ে আর বাতাসে দুলে ওঠে নারিকেল পাতাগুলো। প্রকৃতির এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ছুটে যান সেন্টমার্টিনে।প্রবাল ও সমুদ্রের নীলাভ সৌন্দর্যের সঙ্গে নারিকেল জিনজিরার সবুজ আবহ মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন নারিকেল জিনজিরা, নারিকেল গাছ।

আরও জানা গেছে, তবে কক্সবাজার সহ অন্যান্য পযর্টন স্থানে পযর্টকদের আনা-ঘনা ভরপুর হতে শুরু করলেও এ বছর এখনো সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাওয়া শুরু করেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আগামী নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পযর্টকরা যেতে পারবেন।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ জানান, দ্বীপের চারপাশে সারি সারি দাড়িয়ে থাকা নারিকেল গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং দ্বীপবাসীর জীবিকারও উৎস হয়ে উঠেছে। এই দ্বীপের ডাব পর্যটকদের কাছে খুবই প্রিয়।প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সেন্টমার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, বরং সমুদ্র ও সবুজের এক চিরন্তন রোমাঞ্চ ভরা মিলনস্থল।

তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিনে স্থানীয় যেসব ব্যক্তিরা জমি বিক্রি করেছে সেগুলো সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের ও পোকামাকড়ের কারনে নারিকেল গাছ সংখ্যা কমলেও এখন নতুন করে অনেকেই খালি জায়গায় নারিকেল লাগিয়েছেন। আগে শুধু গ্রামের মধ্যে গাছ ছিল, ধানের জমি, বালিয়াড়ি, জলাশয় ইত্যাদিতে গাছ ছিল না। এখন সব জায়গায় নারিকেল গাছ রোপন করা হয়।

সেন্টমার্টিনে দুলছে সারি সারি নারিকেল গাছ
সারি সারি সবুজ নারিকেল গাছ। ছবি: প্রতিনিধি

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম জানান, ‌সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিনজিরা, এই নারিকেল জিনজিরাতে এক সময় নারিকেল ডাবে ভরপুর ছিলো, দেশ-বিদেশি পযর্টকদের কাছে এই ডাবের চাহিদা বেশি।দ্বীপের চাহিদা পূরণ করে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেও নিয়ে বিক্রি করা হতো।

পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ডাবের চাহিদা পর্যটকদের কাছে বৃদ্ধি পেলেও কয়েক বছর ধরে সেন্টমার্টিনের নারিকেল গাছে সাদা মাছির আক্রমণে অনেক গাছ মারা গেছে। এখন বেশির ভাগ নারিকেল গাছে ফল শূন্য।

তিনি আরও জানান, এ বছর এখনো তো কোন পযর্টক দ্বীপে ভ্রমণে আসেনি। তবে বিগত সময় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে দ্বীপের নারিকেল গাছের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ জোগায়তেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন জানান, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। আমরা চাই এই সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করা। স্থানীয় জনগণের জীবিকা যেন টেকসই হয় এবং দ্বীপের পরিবেশ যেন রক্ষা পায়। নারিকেল গাছ গুলো থেকে পোকামাকড় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।