ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্বল হয়ে পড়েছে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 148

ছবি: প্রতিনিধি

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবার জেলা বান্দরবানে পাসের হার যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে জিপিএ ৫ এর হারও। এ বছরের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 

গেল বছরের জেলা বান্দরবানে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনার চেয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরিক্ষা পাসের হার কমেছে দিগুণ। একই সাথে জিপিএ-৫ ফলাফলের চিত্রও একই।

 

এতে পাহাড়ের শিক্ষারমান দুর্বল হয়ে পড়ায় দিনের পর দিন উত্তীর্ণ ও সিজিপিএ কমেই চলেছে। ফলে শিক্ষার ব্যবস্থার অন্ধকার দিকে এগোচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

 

জেলা শিক্ষা তথ্যনুসারে, বান্দরবান জেলায় কলেজ, মাদ্রাসা আলিম ও টেকনিক্যাল ভিত্তি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) মোট পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭১ জন। এবারে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৯ জন। যা চলতি বছরের পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গেল বছর চেয়ে চলতি বছরের পাশের হার কমেছে ২২ দশমিক ০২ শতাংশ

 

গেল বছর ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাশের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ ছিল ১৭৭ জন ও অকৃতকার্য ছিল ৪০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

 

চলতি বছরের কলেজ ভিত্তি মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৭১ জন, কৃতকার্য হয়েছে ১হাজার ৩৯৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩ ও অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ জন। মাদ্রাসা (আলিম) ভিত্তিক পরিক্ষার্থী ১২৩, কৃতকার্য ১০৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ১৯ জন। টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৭৭ জন, কৃতকার্য ৩৫ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন।

 

এদিকে এবারে এইচএসসি ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ করেছে বান্দরবানে লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ। সেখানে পরিক্ষার্থীর ছিল ৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন ও কৃতকার্য হয়েছে শতভাগ। বান্দরবানে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ প্রথম স্থান হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বান্দরবান ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এই কলেজের মোট পরিক্ষার্থী ছিল ২১০ জন, কৃতকার্য ২০৬ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। যেখানে মোট শতাংশে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ০৯।

 

গেল বছর চেয়ে চলতি বছরে পরিক্ষার ফলাফল চরম দুর্দশা হয়েছে বান্দরবান সরকারী কলেজ। জেলায় এবারে পরিক্ষার্থী সংখ্যা বেশী ছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৪জন তারমধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩৪০,জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৮৩৪ জন। মাত্র ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে এক সময় আশার আলো জ্বালানো শিক্ষা ব্যবস্থা এখন নানা সমস্যায় নুইয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তাদের প্রতি নজরদারি কম রাখা, মানসম্মত শিক্ষকের শিক্ষার প্রতি অবহেলা অভাব ও শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকার কারণে পাশের হার কমে আসছে। ভবিষ্যতে অভিভাবকরা সন্তাদের প্রতি গুরুত্ব ও শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষারমান আরাও ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন তারা।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সরকারী কলেজের প্রফেসর নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনে কারণ রয়েছে। যেসব পাহাড়ি অঞ্চল থেকে (রুমা,থানচি ও রোয়াংছড়ি) শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের দুর্গম ও আর্থিক অসচ্ছলতা কারণে তেমন বিদ্যালয়ের পরিক্ষা দিতে আসেনি। সমতল থেকে সেসব পরিক্ষার্থীরা রয়েছে তারাই কৃতকার্য হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ক্লাস হচ্ছে কলেজের। কিন্তু শিক্ষক সংকট ও টেষ্ট পরিক্ষায় নানা জটিলতার কারণে এবারের ফলাফলের মান খারাপ হয়েছে।

 

জেলা শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর ফলাফলের সংখ্যা কমেছে বাড়েনি। এর কারণ হিসেবে দেখছি শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশী আসক্ত রয়েছে। একই সাথে অভিবাকবকরাও সন্তানদের প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার ফলে ফলাফলের দুর্দশা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিবাবকদের নিয়ে আলোচনা করে সামনে আরো শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নতির দিকে আগানোর আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুর্বল হয়ে পড়েছে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবার জেলা বান্দরবানে পাসের হার যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে জিপিএ ৫ এর হারও। এ বছরের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 

গেল বছরের জেলা বান্দরবানে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনার চেয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরিক্ষা পাসের হার কমেছে দিগুণ। একই সাথে জিপিএ-৫ ফলাফলের চিত্রও একই।

 

এতে পাহাড়ের শিক্ষারমান দুর্বল হয়ে পড়ায় দিনের পর দিন উত্তীর্ণ ও সিজিপিএ কমেই চলেছে। ফলে শিক্ষার ব্যবস্থার অন্ধকার দিকে এগোচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

 

জেলা শিক্ষা তথ্যনুসারে, বান্দরবান জেলায় কলেজ, মাদ্রাসা আলিম ও টেকনিক্যাল ভিত্তি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) মোট পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭১ জন। এবারে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৯ জন। যা চলতি বছরের পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গেল বছর চেয়ে চলতি বছরের পাশের হার কমেছে ২২ দশমিক ০২ শতাংশ

 

গেল বছর ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাশের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ ছিল ১৭৭ জন ও অকৃতকার্য ছিল ৪০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

 

চলতি বছরের কলেজ ভিত্তি মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৭১ জন, কৃতকার্য হয়েছে ১হাজার ৩৯৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩ ও অকৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ জন। মাদ্রাসা (আলিম) ভিত্তিক পরিক্ষার্থী ১২৩, কৃতকার্য ১০৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ১৯ জন। টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৭৭ জন, কৃতকার্য ৩৫ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন।

 

এদিকে এবারে এইচএসসি ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ করেছে বান্দরবানে লামা কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ। সেখানে পরিক্ষার্থীর ছিল ৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন ও কৃতকার্য হয়েছে শতভাগ। বান্দরবানে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজ প্রথম স্থান হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বান্দরবান ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এই কলেজের মোট পরিক্ষার্থী ছিল ২১০ জন, কৃতকার্য ২০৬ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। যেখানে মোট শতাংশে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ০৯।

 

গেল বছর চেয়ে চলতি বছরে পরিক্ষার ফলাফল চরম দুর্দশা হয়েছে বান্দরবান সরকারী কলেজ। জেলায় এবারে পরিক্ষার্থী সংখ্যা বেশী ছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৪জন তারমধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩৪০,জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৮৩৪ জন। মাত্র ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে এক সময় আশার আলো জ্বালানো শিক্ষা ব্যবস্থা এখন নানা সমস্যায় নুইয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তাদের প্রতি নজরদারি কম রাখা, মানসম্মত শিক্ষকের শিক্ষার প্রতি অবহেলা অভাব ও শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকার কারণে পাশের হার কমে আসছে। ভবিষ্যতে অভিভাবকরা সন্তাদের প্রতি গুরুত্ব ও শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষারমান আরাও ভয়াবহ হবে বলে মনে করছেন তারা।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সরকারী কলেজের প্রফেসর নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনে কারণ রয়েছে। যেসব পাহাড়ি অঞ্চল থেকে (রুমা,থানচি ও রোয়াংছড়ি) শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের দুর্গম ও আর্থিক অসচ্ছলতা কারণে তেমন বিদ্যালয়ের পরিক্ষা দিতে আসেনি। সমতল থেকে সেসব পরিক্ষার্থীরা রয়েছে তারাই কৃতকার্য হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ক্লাস হচ্ছে কলেজের। কিন্তু শিক্ষক সংকট ও টেষ্ট পরিক্ষায় নানা জটিলতার কারণে এবারের ফলাফলের মান খারাপ হয়েছে।

 

জেলা শিক্ষা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর ফলাফলের সংখ্যা কমেছে বাড়েনি। এর কারণ হিসেবে দেখছি শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশী আসক্ত রয়েছে। একই সাথে অভিবাকবকরাও সন্তানদের প্রতি গুরুত্ব না দেয়ার ফলে ফলাফলের দুর্দশা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিবাবকদের নিয়ে আলোচনা করে সামনে আরো শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নতির দিকে আগানোর আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।