ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরাদ্দকৃত ত্রাণ গুদামে, সংকটে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 157

বরাদ্দকৃত ত্রাণ গুদামে, সংকটে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

বরিশালের নদীভিত্তিক জীবনধারায় নির্ভরশীল মান্তা সম্প্রদায় আবারও খাদ্য সংকটের মুখে। সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন করা হলেও, বিতরণ এখনও শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি না থাকায় চাল গুদামে পড়ে আছে। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে-মুখে ও চোখে অপেক্ষার ছাপ স্পষ্ট।

বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নদীভিত্তিক জীবনযাপন করা প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা। তবে তারা তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞায় জাল ফেলা তাদের জন্য বন্ধ। ফলে খাদ্যসংকটে পড়েছেন। জেলেদের মধ্যে ৩১৬টি পরিবারকে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু উত্তোলিত চাল এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

লাহারহাটের কমপক্ষে ১৫ জন মান্তা নারী-পুরুষ জানান, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিলম্বে তারা আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন। মমতাজ বেগম, মালেকা বেগম, হাজেরা বেগমসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, “আমরা নদীতে ভাসি, পেটে ভাতও ভাসে। চাল গুদামে আছে, কিন্তু আমাদের হাতে যায়নি।” এ নিয়ে ৭ অক্টোবর মুলাদীতে শতাধিক মান্তা নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন।

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৫০টি মান্তা পরিবারও এলাকায় এসে প্রতিবাদ জানায়, পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরে যান। মান্তা সম্প্রদায়ের অধিকাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নেই। টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের নরেরকাঠি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহাগ আকন জানান, ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক মান্তা ভোটার থাকা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১০ জন। মৎস্য অফিস জানায়, নিবন্ধিত জেলেদের ৮০ শতাংশ চাল পেয়েছেন।

তবে মান্তারা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন এবং শিক্ষার অভাবে জনপ্রতিনিধিরা তাদের তালিকাভুক্ত করতে অনাগ্রহ দেখান। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ থাকলেও ১৫ সেপ্টেম্বর সেই দিনও উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে বিতরণ থেমে আছে।

টুঙ্গীবাড়িয়া ইউপি সচিব মনিরুজ্জামান জানান, ১১ সেপ্টেম্বর চাল বরাদ্দ এলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। ১১০ বস্তা চাল ইউনিয়ন গুদামে জমা আছে, যা এখনও ১১০টি পরিবারে পৌঁছায়নি। চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুঙ্গীবাড়িয়ার ১১০টি পরিবার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন তা কাগজেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, মান্তাদের অধিকাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে ডাল, তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিতরণ বিলম্বিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বরাদ্দকৃত ত্রাণ গুদামে, সংকটে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বরিশালের নদীভিত্তিক জীবনধারায় নির্ভরশীল মান্তা সম্প্রদায় আবারও খাদ্য সংকটের মুখে। সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন করা হলেও, বিতরণ এখনও শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি না থাকায় চাল গুদামে পড়ে আছে। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে-মুখে ও চোখে অপেক্ষার ছাপ স্পষ্ট।

বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নদীভিত্তিক জীবনযাপন করা প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা। তবে তারা তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞায় জাল ফেলা তাদের জন্য বন্ধ। ফলে খাদ্যসংকটে পড়েছেন। জেলেদের মধ্যে ৩১৬টি পরিবারকে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু উত্তোলিত চাল এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

লাহারহাটের কমপক্ষে ১৫ জন মান্তা নারী-পুরুষ জানান, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিলম্বে তারা আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন। মমতাজ বেগম, মালেকা বেগম, হাজেরা বেগমসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, “আমরা নদীতে ভাসি, পেটে ভাতও ভাসে। চাল গুদামে আছে, কিন্তু আমাদের হাতে যায়নি।” এ নিয়ে ৭ অক্টোবর মুলাদীতে শতাধিক মান্তা নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন।

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৫০টি মান্তা পরিবারও এলাকায় এসে প্রতিবাদ জানায়, পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরে যান। মান্তা সম্প্রদায়ের অধিকাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নেই। টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের নরেরকাঠি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহাগ আকন জানান, ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক মান্তা ভোটার থাকা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১০ জন। মৎস্য অফিস জানায়, নিবন্ধিত জেলেদের ৮০ শতাংশ চাল পেয়েছেন।

তবে মান্তারা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন এবং শিক্ষার অভাবে জনপ্রতিনিধিরা তাদের তালিকাভুক্ত করতে অনাগ্রহ দেখান। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ থাকলেও ১৫ সেপ্টেম্বর সেই দিনও উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে বিতরণ থেমে আছে।

টুঙ্গীবাড়িয়া ইউপি সচিব মনিরুজ্জামান জানান, ১১ সেপ্টেম্বর চাল বরাদ্দ এলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। ১১০ বস্তা চাল ইউনিয়ন গুদামে জমা আছে, যা এখনও ১১০টি পরিবারে পৌঁছায়নি। চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুঙ্গীবাড়িয়ার ১১০টি পরিবার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন তা কাগজেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, মান্তাদের অধিকাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে ডাল, তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিতরণ বিলম্বিত হচ্ছে।