ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মার পাড়ে ইলিশের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 137

সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মার পাড়ে ইলিশের বাজার

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের অভিযান চললেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশের বেচাকেনা। পদ্মার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী মাছের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর তারাবুনিয়ার ছুরিরচর বেপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে নদীর পাড়ে উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লাল মিয়া বেপারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যবসায়ী একটি অস্থায়ী আড়ত গড়ে তুলেছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলেছে মা ইলিশের কেনাবেচা। একইভাবে দুলারচর ভাঙা স্কুল এলাকা, উত্তর তারাবুনিয়ার মোল্যার বাজার ঘাট এবং মনাই হাওলাদারের বাজারের সাবেক লঞ্চঘাট এলাকাতেও একাধিক অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। কাচিকাটার বিভিন্ন পয়েন্টেও ছোট-বড় আরও কয়েকটি মাছের হাট বসেছে।

জানা যায়, এসব আড়তে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মা ইলিশ বিক্রি হয়। জেলেরা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতে নদীতে জাল ফেলে। অভিযানের খবর পেলে দ্রুত পাড়ে উঠে আসে, পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই মাছ তুলে এনে আড়তে বিক্রি করে।

ব্যবসায়ী লাল মিয়া বেপারী বলেন, “আশা ছিল মা ইলিশের মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে, কিন্তু নদীতে যথেষ্ট মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ব্যবসা করে, সবার অবস্থাই খারাপ।”

আরেক ব্যবসায়ী সুমন প্রধানীয়া জানান, “নদীতে মাছ নেই, জেলেরা যেতে পারছে না। ব্যবসায় লোকসান করছি।”

জেলে আল আমিন ও আনিসুর বলেন, “২২ দিন কাজ না করলে সংসার চলে না। সরকার যে ২০ কেজি চাল দেয়, তাতে পরিবার টিকে না। তাই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে জাল ফেলি।”

সখিপুর থানা বিএনপির সভাপতি ও কাচিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, “আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। বিএনপি দায় নেবে না। প্রশাসনকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, জাল জব্দ করছি। যে আড়তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মার পাড়ে ইলিশের বাজার

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের অভিযান চললেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশের বেচাকেনা। পদ্মার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী মাছের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর তারাবুনিয়ার ছুরিরচর বেপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে নদীর পাড়ে উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লাল মিয়া বেপারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যবসায়ী একটি অস্থায়ী আড়ত গড়ে তুলেছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলেছে মা ইলিশের কেনাবেচা। একইভাবে দুলারচর ভাঙা স্কুল এলাকা, উত্তর তারাবুনিয়ার মোল্যার বাজার ঘাট এবং মনাই হাওলাদারের বাজারের সাবেক লঞ্চঘাট এলাকাতেও একাধিক অস্থায়ী আড়ত গড়ে উঠেছে। কাচিকাটার বিভিন্ন পয়েন্টেও ছোট-বড় আরও কয়েকটি মাছের হাট বসেছে।

জানা যায়, এসব আড়তে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মা ইলিশ বিক্রি হয়। জেলেরা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতে নদীতে জাল ফেলে। অভিযানের খবর পেলে দ্রুত পাড়ে উঠে আসে, পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই মাছ তুলে এনে আড়তে বিক্রি করে।

ব্যবসায়ী লাল মিয়া বেপারী বলেন, “আশা ছিল মা ইলিশের মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে, কিন্তু নদীতে যথেষ্ট মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ব্যবসা করে, সবার অবস্থাই খারাপ।”

আরেক ব্যবসায়ী সুমন প্রধানীয়া জানান, “নদীতে মাছ নেই, জেলেরা যেতে পারছে না। ব্যবসায় লোকসান করছি।”

জেলে আল আমিন ও আনিসুর বলেন, “২২ দিন কাজ না করলে সংসার চলে না। সরকার যে ২০ কেজি চাল দেয়, তাতে পরিবার টিকে না। তাই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে জাল ফেলি।”

সখিপুর থানা বিএনপির সভাপতি ও কাচিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, “আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। বিএনপি দায় নেবে না। প্রশাসনকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, জাল জব্দ করছি। যে আড়তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”