পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান, কার সামরিক শক্তি কেমন
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
- / 496
২০২৫ সালের সামরিক শক্তি সূচকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ব সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার এর সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতা, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা বাজেট ও বিমান শক্তি- সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সূচকে পাকিস্তানের শক্তি সূচক দাঁড়িয়েছে ১০.২৫, যা বিশ্বে ১২তম স্থান। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সূচক ২.৬৪, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং সামরিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই র্যাংকিংয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান ১১৮তম।
জনশক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
পাকিস্তানের সক্রিয় ও আধাসামরিক বাহিনীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ, যা আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত। আফগানিস্তানের তুলনায় নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই, তাদের সক্রিয় বা রিজার্ভ বাহিনীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যাটো-সমর্থিত প্রশিক্ষণ পেয়েছে, যা আফগান বাহিনীর ক্ষেত্রে নেই।
বাজেট ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা
প্রতিরক্ষা বাজেটেও দুই দেশের ব্যবধান বিশাল। পাকিস্তানের বাজেট প্রায় ৭.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আফগানিস্তানের বাজেট মাত্র ২৯ কোটি ডলার। বাজেটের এই পার্থক্য সামরিক প্রযুক্তি, অস্ত্রভাণ্ডার ও সরঞ্জাম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিমান ও স্থল শক্তি
পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে প্রায় ১,৪০০টি বিমান রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, আক্রমণ হেলিকপ্টার ও কার্গো প্লেন অন্তর্ভুক্ত। আফগানিস্তানের বিমান শক্তি প্রায় নিষ্ক্রিয়; তাদের হাতে মাত্র ৯টি বিমান। স্থল বাহিনীতে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, স্বচালিত আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেমসহ আধুনিক অস্ত্রের বিস্তৃত ভাণ্ডার। আফগান বাহিনী এসব ক্ষেত্রে কার্যত পিছিয়ে।
নৌশক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা
আফগানিস্তান ল্যান্ডলকড হওয়ায় নৌবাহিনী গঠন করতে পারছে না। বিপরীতে পাকিস্তানের উন্নত নৌবাহিনী ভারত মহাসাগর অঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতি এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে পারছে না। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তুরস্কের সহযোগিতায় প্রযুক্তিগতভাবে দ্রুত আধুনিকায়িত হচ্ছে।
সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেখা গেছে, পাহাড়ি ভূখণ্ড ও স্থানীয় গেরিলা কৌশলে আফগান যোদ্ধাদের কিছু সুবিধা আছে, কিন্তু সামগ্রিক সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান আঞ্চলিকভাবে অনেক এগিয়ে।
































