ভারত সফরে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র বার্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- / 129
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সপ্তাহের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে পৌঁছেছেন। ২০২১ সালে পশ্চিমা মদদপুষ্ট আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে তালেবান আফগানিস্তান ক্ষমতা দখল করার পর এটি সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির প্রথম ভারত সফর। আট দিনের সফরে মুত্তাকি দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হয় আমির খান মুত্তাকির। এ সময় জয়শঙ্কর কাবুলে ভারতের টেকনিক্যাল মিশনকে দূতাবাসের মর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
পরে দিল্লির আফগান দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। বাছাই করা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক দেশের বিষয়ে মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আবার তৈরি হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক ইতিমধ্যে কিছুটা অবনতি ঘটেছে।
ভারত ও আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে আমির মুত্তাকি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ‘সতর্কবার্তা’ দেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানদের ‘সাহস পরীক্ষা’ করা উচিত নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
কাবুলে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামলা হয়েছে। পাকিস্তানের এই কাজকে আমরা ভুল মনে করি। ৪০ বছর পর আফগানিস্তানে শান্তি ও অগ্রগতি এসেছে। আফগানদের সাহস পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। যদি কেউ তা করতে চায়, তাহলে তাদের উচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে জিজ্ঞাসা করা, যাতে তারা বুঝিয়ে দিতে পারে আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলা করা ঠিক নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে বার্তা
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগরাম বিমান ঘাঁটিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর আহ্বান জানান। আফগানিস্তান তা দ্রুত প্রত্যাখ্যান করে। ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে দিল্লিতে বসে সেই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেন মুত্তাকি। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই প্রমাণ দিয়েছে যে আমরা সেখানে কখনোই কোনো সামরিক বাহিনীকে গ্রহণ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। আফগানিস্তান একটি সার্বভৌম দেশ এবং সেটাই থাকবে। সম্পর্ক চাইলে কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। আমরা কোনো সামরিক পোশাকধারীকে গ্রহণ করি না।”
































