কাবুলে দূতাবাস পুনরায় চালুর ঘোষণা ভারতের
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / 121
তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভি আমির খান ৯ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। ছবি: রয়টার্স
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে ভারত। দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর শুক্রবার কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি। এই পদক্ষেপ তালেবান সরকারের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, যদিও ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি।
২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতা দখল করলে ভারত কাবুল দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২২ সালে সীমিত আকারে একটি টেকনিক্যাল মিশন চালু করা হয়, যা মূলত মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সেবা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করতে কাজ করছিল।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মোটতাকির মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ভারত সফর করলেন। মোটতাকি জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অস্থায়ী ছাড়পত্র নিয়ে ছয় দিনের সফরে ভারতে আসেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আফগানিস্তানে চীনের বাড়তে থাকা প্রভাবের কারণে নয়াদিল্লি তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে বাধ্য হচ্ছে।
ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ হর্ষ পন্ত বলেন, “যোগাযোগ মানেই সমর্থন নয়। তালেবান শাসনে সংখ্যালঘু অধিকার, নারী অধিকার এবং মানবাধিকার ইস্যুতে ভারতের অস্বস্তি রয়েছে। তবে বাস্তবতার প্রয়োজনে দিল্লি এই সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে।”
বর্তমানে চীন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ প্রায় এক ডজন দেশ কাবুলে দূতাবাস চালাচ্ছে। তবে এদের মধ্যে কেবল রাশিয়াই আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বৈঠকে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটতাকি প্রতিশ্রুতি দেন, আফগানিস্তানের মাটিকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি আফগানিস্তান ও ভারত সরকারি পর্যায়ে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে।”
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতাকে সম্মান করে। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আফগানিস্তানের উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।”
যদিও দূতাবাস কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করবে সে বিষয়ে ভারত এখনো কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি, তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে- এটি ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত করছে।
তথ্য সূত্র: রয়টার্স






























