গাজায় যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের উল্লাস
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 143
হামাস ও ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই খান ইউনিসের রাস্তায় নেমে আসে আনন্দমুখর জনতা। গানে, নাচে, উল্লাসে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। রয়টার্সের হাতে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মানুষ ছোট দলে জড়ো হয়ে নাচছেন, গান গাইছেন ও উল্লাস করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন, অবশেষে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়েছে। উভয়পক্ষ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, এর মানে, সব জিম্মিকে খুব শিগগিরই মুক্তি দেয়া হবে। ইসরাইল সম্মত সীমারেখা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করবে।
হামাসও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইসরাইলকে চুক্তির সব শর্ত পূর্ণভাবে মেনে চলতে বাধ্য করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানান, গাজা সিটিতে এখনো ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছে। বিশেষ করে সেই এলাকাগুলোতে, যেখানে গত মাসে ইসরায়েল স্থল অভিযান চালিয়েছিল। এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষ এখনো বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন।
গাজা সিটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-জারু বলেন, বুধবার তিনি আকাশে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এবং মঙ্গলবার সারাদিন ও রাতজুড়ে গাজায় বিমান হামলা আর বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
তবুও গাজার মানুষ যুদ্ধবিরতির খবরকে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তারা উদযাপন করছেন, তবে সতর্ক রয়েছেন এই আশায় যে, চুক্তিটি অবশেষে ইসরায়েলের বর্বর হামলার অবসান ঘটাবে।
খান ইউনিসের বাসিন্দা খালেদ শাআত রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই বছরের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনিদের জন্য এই মুহূর্ত ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত।’ আরেক বাসিন্দা ওয়েল রাদওয়ান এই চুক্তির কৃতিত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারগুলো তেল আবিবের বিখ্যাত ‘হোস্টেজেস স্কয়ারে’ জড়ো হয়েছিলেন, যা এখন তাদের প্রতিবাদ ও আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এক জিম্মির পরিবার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই, কারণ তার প্রচেষ্টা ছাড়া আমাদের সন্তানরা হয়তো আর কখনো বাড়ি ফিরত না।’
হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি সরকার চুক্তিটি অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত জিম্মিদের হস্তান্তর করা হবে। তবে হামাস কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহত জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারে আরো সময় লাগবে। তাদের ধারণা অনুযায়ী, নিহত জিম্মিদের সংখ্যা প্রায় ২৮ জন। বুধবার ফক্স নিউজের হ্যানিটি অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জিম্মিদের সম্ভবত সোমবার মুক্তি দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয়। ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজায় কমপক্ষে ৬৭,১৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০,১৭৯ জন শিশু, বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।




































