ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস?’ বলেই কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 143

সাংবাদিক এ এস এম হায়াত উদ্দিন

বাগেরহাটে বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক এ এস এম হায়াত উদ্দিন হত্যা মামলার দুই দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। এতে ইসরাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালি এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হায়াত উদ্দিন নিজ বাড়ির কাছে সিদ্দিকের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন এসে তাঁকে ঘিরে ধরে। তাদের একজন বলে ওঠে, “তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা একটু দেখা।” কথা শেষ না হতেই শুরু হয় এলোপাতাড়ি কোপানো।

হায়াত উদ্দিন (৪০) স্থানীয় মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন এবং সম্প্রতি বাগেরহাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে বারবার আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার সময় হায়াত উদ্দিন প্রাণভিক্ষা চাইলেও দুর্বৃত্তরা থামেনি। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভয়ে কেউ তখন এগিয়ে আসতে পারেননি।

জানা গেছে, এলাকার মাদক ব্যবসা, ঠিকাদারি অনিয়ম ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে হায়াত উদ্দিন নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। এ কারণেই কয়েক মাস আগে তাঁর ওপর একবার হামলা হয়েছিল।

হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইসরাইল মোল্লা বিএনপির কর্মী এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদ-উল-হাসান জানান, “নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস?’ বলেই কুপিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাটে বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক এ এস এম হায়াত উদ্দিন হত্যা মামলার দুই দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। এতে ইসরাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালি এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হায়াত উদ্দিন নিজ বাড়ির কাছে সিদ্দিকের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন এসে তাঁকে ঘিরে ধরে। তাদের একজন বলে ওঠে, “তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা একটু দেখা।” কথা শেষ না হতেই শুরু হয় এলোপাতাড়ি কোপানো।

হায়াত উদ্দিন (৪০) স্থানীয় মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন এবং সম্প্রতি বাগেরহাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে বারবার আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার সময় হায়াত উদ্দিন প্রাণভিক্ষা চাইলেও দুর্বৃত্তরা থামেনি। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভয়ে কেউ তখন এগিয়ে আসতে পারেননি।

জানা গেছে, এলাকার মাদক ব্যবসা, ঠিকাদারি অনিয়ম ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে হায়াত উদ্দিন নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। এ কারণেই কয়েক মাস আগে তাঁর ওপর একবার হামলা হয়েছিল।

হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইসরাইল মোল্লা বিএনপির কর্মী এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদ-উল-হাসান জানান, “নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”