ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্লোটিলায় আটক যেসব দেশের নাগরিক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 75

ফ্লোটিলায় আটক যেসব দেশের নাগরিক

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কয়েকটি নৌকায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে ৩৯টি নৌকা আটক করেছে এবং এর ফলে শত শত অ্যাক্টিভিস্ট ও সাহায্যকর্মী আটক হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র একটি নৌকা গাজা অভিমুখে রয়েছে।

লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, মোট ৩৯টি নৌকা আটক করা হয়েছে। তবে অন্যান্য সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৩ থেকে ১৯টি নৌকা আটকের খবর পাওয়া গেছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৩৭টি দেশের প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অধিকারকর্মী রয়েছেন। তাদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগেও গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করা হয়েছিল।

লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র চারটি জাহাজ সাগরে রয়েছে। এর মধ্যে ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থান করছে। অন্য দুটি জাহাজ আইনি সহায়তার জন্য সাইপ্রাসের দিকে যাচ্ছে এবং একটি মিশরের উপকূলে রয়েছে।

ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, আটক সত্ত্বেও তাদের ৩০টি নৌযান এখনও গাজার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বহরকে ‘হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে এর উদ্দেশ্য কেবল উসকানি সৃষ্টি করা, ত্রাণ দেওয়া নয়। তারা বলেছে, সব যাত্রীকে নিরাপদে আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নৌ-অবরোধের বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, আল জাজিরা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটক করাকে ফ্লোটিলার আয়োজকরা ‘বেআইনি’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী জলকামানসহ আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ আখ্যা দিয়ে বহু তুর্কি নাগরিক আটক হওয়ার নিন্দা জানিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইতালি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ আটক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফ্লোটিলায় আটক যেসব দেশের নাগরিক

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কয়েকটি নৌকায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে ৩৯টি নৌকা আটক করেছে এবং এর ফলে শত শত অ্যাক্টিভিস্ট ও সাহায্যকর্মী আটক হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র একটি নৌকা গাজা অভিমুখে রয়েছে।

লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, মোট ৩৯টি নৌকা আটক করা হয়েছে। তবে অন্যান্য সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৩ থেকে ১৯টি নৌকা আটকের খবর পাওয়া গেছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৩৭টি দেশের প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অধিকারকর্মী রয়েছেন। তাদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগেও গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করা হয়েছিল।

লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র চারটি জাহাজ সাগরে রয়েছে। এর মধ্যে ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থান করছে। অন্য দুটি জাহাজ আইনি সহায়তার জন্য সাইপ্রাসের দিকে যাচ্ছে এবং একটি মিশরের উপকূলে রয়েছে।

ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, আটক সত্ত্বেও তাদের ৩০টি নৌযান এখনও গাজার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বহরকে ‘হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে এর উদ্দেশ্য কেবল উসকানি সৃষ্টি করা, ত্রাণ দেওয়া নয়। তারা বলেছে, সব যাত্রীকে নিরাপদে আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নৌ-অবরোধের বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, আল জাজিরা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ আটক করাকে ফ্লোটিলার আয়োজকরা ‘বেআইনি’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী জলকামানসহ আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ আখ্যা দিয়ে বহু তুর্কি নাগরিক আটক হওয়ার নিন্দা জানিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইতালি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ আটক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।