ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি দুই শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 107

সেন্টমার্টিনে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি দুই শতাধিক পরিবার

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বর্ষণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের প্রধান স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় টানা দুইদিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের পাঁচটি গ্রামের শত শত ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। জোয়ারের প্রভাবে একটি ফিশিং ট্রলারও ঘাটে ডুবে যায়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একজন ব্যক্তি স্লুইস গেট বন্ধ করায় পানির স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের একমাত্র স্লুইস গেট কার্যকর না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গেট বন্ধের পেছনে অন্য একজনের ভূমিকা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে তা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দ্বীপের পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, নজরুলপাড়া ও কোনাপাড়া গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। মাঝেরপাড়ার আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমাদের ঘর পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না করার সুযোগ নেই, পরিবার সারাদিন না খেয়ে আছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আল নোমান জানান, তার এলাকায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়েছে। বহুবার স্লুইস গেট মেরামতের দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, মূলত স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় পানি আটকে গেছে। ইতোমধ্যে গেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থামলে পানি নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন পানিবন্দি মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচল এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সেন্টমার্টিনে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি দুই শতাধিক পরিবার

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বর্ষণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের প্রধান স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় টানা দুইদিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের পাঁচটি গ্রামের শত শত ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। জোয়ারের প্রভাবে একটি ফিশিং ট্রলারও ঘাটে ডুবে যায়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একজন ব্যক্তি স্লুইস গেট বন্ধ করায় পানির স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের একমাত্র স্লুইস গেট কার্যকর না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গেট বন্ধের পেছনে অন্য একজনের ভূমিকা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে তা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দ্বীপের পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, নজরুলপাড়া ও কোনাপাড়া গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। মাঝেরপাড়ার আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমাদের ঘর পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না করার সুযোগ নেই, পরিবার সারাদিন না খেয়ে আছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আল নোমান জানান, তার এলাকায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়েছে। বহুবার স্লুইস গেট মেরামতের দাবি জানানো হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, মূলত স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় পানি আটকে গেছে। ইতোমধ্যে গেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থামলে পানি নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন পানিবন্দি মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচল এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।